ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

টানা বৃষ্টিতে কুতুবদিয়া-পেকুয়ায় পানিবন্দি হাজারো মানুষ

২০২৬ জুলাই ১২ ১১:৩৬:১৭

টানা বৃষ্টিতে কুতুবদিয়া-পেকুয়ায় পানিবন্দি হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। গত দুই দিন বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে আবারও ভারি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পানি বাড়তে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়া ও পেকুয়ার অধিকাংশ ঘরবাড়ি এখনো পানির নিচে রয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পানি বাড়তে থাকায় বাসিন্দাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেকেই খেয়ে-না-খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তবে দুই উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট ও কালভার্টে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কিছু অসাধু চক্র মাছ শিকার করায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নের মতির বাপের পাড়া, চিন্নি খাইয়ে পাড়া, শাহজীর পাড়া, গাইনে কাটা, নয়াঘোনা ও ধুপি পাড়া; দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের কিল্লার পাড়া ও বাতিঘর; উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়া, চাটি পাড়া, জইজ্যার পাড়া, ছাদের ঘোনা, জুম্মা পাড়া ও বাকখালীসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনিতে। সেখানে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। এ ছাড়া দ্বীপের বিভিন্ন সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের পূর্ব তাবালেরচর, আনিছর ডেইল ও জেলে পাড়া; বড়ঘোপ ইউনিয়নের বদাইয়ার পাড়া, মনোহরখালী, মিয়ার ঘোনা, আজম কলোনি, কালাইয়া পাড়া ও দক্ষিণ অমজাখালী; এবং কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মলমচর, কিল্লার পাড়া ও নজর আলী মাতবর এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।

অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলার টইটং, বারবাকিয়া, শিলখালী, পেকুয়া সদর, উজানটিয়া, রাজাখালী ও মগনামা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম এখনো পানিবন্দি। এসব এলাকায় মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা।

উজানটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অভিযোগ, শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এলেও সাধারণ মানুষের কথা শোনেননি। তাদের ভাষ্য, রাতে ঘুমাতে পারছেন না, সন্তানরা না খেয়ে রয়েছে, কিন্তু কেউ সাহায্য-সহযোগিতা করছে না। নেতারা চারপাশে বাঁধ দিয়ে রেখে তাদের ডুবিয়ে মারছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বড়ঘোপ ইউনিয়নের বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ বলেন, টানা বৃষ্টিতে পানি জমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেকেই মাছ ধরার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে স্লুইসগেট বন্ধ করে রাখে। এসব ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

সব হারিয়ে দিশেহারা কৃষক হারুন যুগান্তরকে বলেন, টানা ভারি বৃষ্টির প্রথম রাতেই তার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। পানির উচ্চতা এতটাই বেশি ছিল যে চোখের সামনে হাঁড়ি-পাতিলসহ ঘরের আসবাবপত্র ভেসে গেছে। অল্প কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার করে এখন পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ঘর হারানোর কষ্টের চেয়েও বড় কষ্ট হলো তার মাছের ঘের ভেসে যাওয়া। ওই ঘেরই ছিল তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। এখন তিনি পুরোপুরি নিঃস্ব। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাদের খোঁজ নিতে কেউ এগিয়ে আসেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলো নজরদারিতে রাখতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও তদারকিতে রয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার বিতরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় টিম কাজ করছে। সাতটি ইউনিয়নের জন্য ১০ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও সহায়তা চাওয়া হবে। পাশাপাশি শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফের বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন... বিস্তারিত