ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
জুমার খুতবার সময় নীরব থাকার গুরুত্ব: ইসলামের দৃষ্টিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক: মুসলিম উম্মাহর কাছে সপ্তাহের প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুক্রবার বা জুমার দিনটি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এই দিনটিকে ‘সাপ্তাহিক ঈদ’ হিসেবে গণ্য করা হয়। রাসূলে করিম (সা.) জুমার দিনের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে একে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ন্যায় শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে অভিহিত করেছেন (ইবনে মাজাহ, হাদিস ১০৮৪)। জুমার দিনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো খুতবা, যার মাধ্যমে মুসল্লিরা আত্মশুদ্ধি ও দ্বীনি শিক্ষার দিশা পান। তবে এই খুতবা চলাকালীন মুসল্লিদের আচরণের বিষয়ে ইসলামে রয়েছে অত্যন্ত কঠোর ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।
খুতবার সময় কথা বলা ও অন্যের মনোযোগ বিঘ্নিত করাবর্তমান সময়ে জুমার খুতবা চলাকালে অনেকের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতা কিংবা অন্যকে চুপ করানোর জন্য কথা বলার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ইসলামের দৃষ্টিতে এসব কাজ জুমার সওয়াব ও ফজিলত নষ্ট করে দেয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, “জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দেবেন, তখন যদি আপনি আপনার পাশের সঙ্গীকে বলেন ‘চুপ থাকো’, তবে আপনি অনর্থক কাজ করলেন (অর্থাৎ জুমার সওয়াব নষ্ট করলেন)।” [সহিহ বুখারি (৮৯২) ও সহিহ মুসলিম (৮৫১)]। এই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, খুতবা চলাকালে শরিয়ত অনুমোদিত কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যেমন অনুচিত, তেমনি দুনিয়াবি যেকোনো আলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
নীরবতা পালন কি নফল না ফরজ?
খুতবার সময় নীরব থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে শোনা মুসল্লিদের জন্য অপরিহার্য। আবুদ দারদা (রা.) বর্ণিত একটি ঘটনায় দেখা যায়, খুতবা চলাকালে তিনি উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে একটি আয়াতের নাজিলের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উবাই (রা.) কোনো উত্তর দেননি। নামাজ শেষে উবাই (রা.) তাকে বলেন, “খুতবার সময় কথা বলার কারণে তুমি তোমার জুমার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়েছ।” বিষয়টি নবীজি (সা.)-কে জানানো হলে তিনি উবাই (রা.)-এর বক্তব্যকেই সঠিক বলে সত্যায়ন করেন। [মুসনাদে আহমাদ (২০৭৮০), সুনানে ইবনে মাজাহ (১১১১)]। মুহাদ্দিসীনদের মতে, এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে জুমার খুতবার সময় নীরবতা পালন করা ফরজ এবং কথা বলা হারাম।
খুতবা চলাকালীন যেসব ক্ষেত্রে কথা বলা বৈধ
তবে বিশেষ কিছু প্রয়োজনে খতিবের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। আনাস বিন মালেক (রা.) বর্ণিত হাদিসে দেখা যায়, দুর্ভিক্ষের সময় নবীজি (সা.) খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন এক বেদুইন দাঁড়িয়ে তার কাছে বৃষ্টির জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানান। নবীজি (সা.) খুতবা অবস্থায়ই দোয়া করেন। আবার পরবর্তী জুমায় অতিরিক্ত বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষার জন্যও ওই ব্যক্তি বা অন্য কেউ পুনরায় খতিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। [সহিহ বুখারী (৮৯১) ও সহিহ মুসলিম (৮৯৭)]। এছাড়া কোনো অন্ধ ব্যক্তিকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করার মতো জরুরি প্রয়োজনে কথা বলা বৈধ।
সালাম আদান-প্রদানের বিধান
খুতবা চলাকালীন মসজিদে প্রবেশ করলে উপস্থিত অন্যদের সালাম দেওয়া বা কারো সালামের উত্তর দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়। প্রখ্যাত আলেম শায়খ বিন উছাইমীনের ফতোয়া অনুযায়ী, খুতবা চলাকালে সালাম দেওয়া নিষিদ্ধ এবং অন্যদের জন্য সেই সালামের উত্তর দেওয়াও জায়েজ নয়। [ফতোয়াসমগ্র (১৬/১০০)]।
পরিশেষে, জুমার নামাজ ও এর খুতবা কেবল একটি প্রথা নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান ইবাদত। খতিবের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং খুতবার আদব রক্ষা করা প্রত্যেক মুসল্লির ঈমানি দায়িত্ব। শরিয়ত অনুমোদিত বিশেষ কারণ ছাড়া ইমাম খুতবা দেওয়া শুরু করলে কথা বলা বা অন্য কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। জুমার পূর্ণ সওয়াব লাভের জন্য প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত এই পবিত্র সময়ে পূর্ণ নীরবতা ও একাগ্রতা বজায় রাখা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: Live দেখুন এখানে
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন জেমস
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- শতবর্ষী ৮০৮ স্কুল-কলেজের তালিকা করল মাউশি
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- আত্মহ/ত্যার আগে যা লিখেছিলেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী
- ছেলে হ/ত্যার নেপথ্যে দুটি কারণ দেখছেন অপ্রতিমের মা
- প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগপত্র, যোগদান ও পদায়নের সূচি প্রকাশ
- যেভাবে হত্যা করা হয় অপ্রতীমকে, আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এল বর্ণনা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২১ সেপ্টেম্বর)
- কোন রুটে কত বাড়ল বাসের ভাড়া
- আজ রাজধানীতে যেসব দোকান-মার্কেট বন্ধ (২০ সেপ্টেম্বর)
- নবম-পে স্কেলে অনলাইনে হবে বেতন নির্ধারণ