ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

টানা তিন জুমা না পড়লে পেতে হবে যে দুই শাস্তি

২০২৬ জুন ২৬ ১৩:২৫:২৫

টানা তিন জুমা না পড়লে পেতে হবে যে দুই শাস্তি

ডুয়া ডেস্ক: টানা তিনটি জুমার নামাজ অবহেলা করে ছেড়ে দিলে একজন মুসলমানকে দুটি কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি বলেন, হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি গাফলতি করে পরপর তিনটি জুমার নামাজ ত্যাগ করে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন এবং তাকে মুনাফিকদের তালিকাভুক্ত করে দেন।

এক মাহফিলে জুমার নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে আজহারী বলেন, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অবহেলা করে টানা তিনটি জুমা ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।’ এর অর্থ হলো, ধীরে ধীরে তার হৃদয় থেকে ঈমানি অনুভূতি দুর্বল হয়ে যেতে থাকে। ভালো কথা, নামাজ, আজান কিংবা ইসলামের শিক্ষা তখন আর তার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয় না। বরং গান-বাজনা, আনন্দ-উল্লাস ও দুনিয়াবি ভোগ-বিলাসের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে।

তিনি বলেন, টানা তিনটি জুমা ত্যাগের দ্বিতীয় শাস্তি হলো ওই ব্যক্তির নাম মুনাফিকদের খাতায় লেখা হয়। এ বিষয়ে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তাই কোনো অবস্থাতেই জুমার নামাজকে অবহেলা করা উচিত নয়।

জুমার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আজহারী কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনের নামাজের জন্য যখন আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ করে দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা বুঝতে পারো।’

তিনি ব্যাখ্যা করেন, এখানে ‘আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও’ বলতে জুমার খুতবা ও নামাজে অংশগ্রহণকে বোঝানো হয়েছে। তাই জুমার আজান হওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনো দুনিয়াবি ব্যস্ততাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নয়।

আজহারী আরও বলেন, অনেকেই ‘ধাবিত হও’ শব্দটির অর্থ দৌড়ে মসজিদে যাওয়া মনে করেন। কিন্তু ইসলামে নামাজে যাওয়ার সময় দৌড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। বিশ্বনবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, নামাজ শুরু হয়ে গেলেও ধীরস্থিরভাবে মসজিদে যেতে হবে। যতটুকু নামাজ পাওয়া যাবে তা আদায় করতে হবে এবং যে অংশ ছুটে যাবে, তা পরে পূরণ করতে হবে।

জুমার খুতবার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কোরআনে খুতবাকে ‘জিকরুল্লাহ’ বা আল্লাহর স্মরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই জুমার নামাজের পাশাপাশি খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খতিবদের উদ্দেশে আজহারী বলেন, জুমার খুতবা কেবল আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়; এটি মানুষকে শিক্ষা দেওয়া, সমাজের সমস্যা তুলে ধরা এবং কোরআন-সুন্নাহর আলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি জানান, মদিনা জীবনের ১০ বছরে বিশ্বনবী (সা.) ৫০০টিরও বেশি জুমার খুতবা দিয়েছেন এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুমার দিন আগে আগে মসজিদে আসা, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। জুমার নামাজের প্রতি সবাইকে আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফের বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন... বিস্তারিত