ঢাকা, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

বিয়ের প্রতিশ্রুতির সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে ধর্ষণ নয়: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

২০২৬ জুন ২০ ১৮:১২:১১

বিয়ের প্রতিশ্রুতির সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে ধর্ষণ নয়: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গসংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, দুই প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা সম্পর্ককে কেবল বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধর্ষণের অভিযোগ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

এ বিষয়ে এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, আদালত স্পষ্ট করেছে—যদি সম্পর্কটি উভয়ের সম্মতিতে গড়ে ওঠে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তবে পরবর্তীতে বিয়ে না হওয়াকে সব ক্ষেত্রে ধর্ষণের অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

বিচারপতি বিবেক কুমার সিংয়ের একক বেঞ্চ সম্প্রতি সঞ্জয় সরোজ ওরফে সঞ্জয় কুমার নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা আবেদনের শুনানি শেষে এ রায় দেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রমও বাতিল করে দেওয়া হয়।

৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত উল্লেখ করে, অভিযোগকারী নারী যদি পূর্ণ জ্ঞান ও স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রেখে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন, তবে পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি না রাখাকে ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে ধরা যায় না।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলাটি মূলত বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। কারণ এফআইআর দায়েরের পর অভিযোগকারী নিজেই অভিযুক্তকে বিয়ে করেন। এই পরিস্থিতিকে আদালত বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহার এবং ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে।

মামলার সূত্রপাত ২০১৯ সালে, উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের কর্নেলগঞ্জ থানায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়াগরাজে এসে ওই নারী সঞ্জয় কুমারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। পরে তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে দীর্ঘদিন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানো হলে নির্যাতনের শিকার হন।

তবে তদন্তে শারীরিক নির্যাতনের কোনো দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া যায়নি, এমনকি মেডিকেল পরীক্ষাতেও আঘাতের কোনো চিহ্ন মেলেনি।

শুনানিতে আদালত আরও জানায়, দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কেবল বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে হয়েছে-এমন দাবি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে যৌক্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী একাধিক রায়ের নজিরও তুলে ধরা হয়।

সবশেষে ‘রাজ্য বনাম ভজন লাল’ মামলার নীতির আলোকে আদালত মন্তব্য করে, এই মামলায় বিচার চলমান রাখা অযৌক্তিক হবে। ফলে সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে থাকা সব ফৌজদারি অভিযোগ বাতিল করা হয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২০ জুন)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২০ জুন)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণবাজারে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয়ের পর এবার... বিস্তারিত