ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

নিরাপত্তার নামে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্নতা নয়: প্রধানমন্ত্রী 

২০২৬ জুন ১৮ ১৫:৫০:৫২

নিরাপত্তার নামে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্নতা নয়: প্রধানমন্ত্রী 

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যদের যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা কৌশলে আরও এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফকে সবসময় আধুনিক ও প্রস্তুত থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণ বয়স থেকেই এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে এখন প্রতিদিনই তিনি বাহিনীটির কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছেন। তবে তার এসএসএফকে জানার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকাল থেকেই তিনি এসএসএফের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজার আয়োজনেও এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে। এ জন্য তিনি নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে বাহিনীটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফ প্রতিষ্ঠার সময়কার বাস্তবতা এবং বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তারের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরনও বহুমাত্রিক হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাহিনীকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল ও আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে সরকারপ্রধান জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। একটি আধুনিক ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান সরকার দায়িত্ব পালন করছে। সরকারপ্রধান হিসেবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে তিনি নিজের গাড়িবহরের আকার ছোট করেছেন। ফলে সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে বাহিনীকে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসভা এবং রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়। এসব অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি জটিল কাজ। একদিকে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে এসএসএফকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

তিনি মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সমন্বিত ও পেশাদার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এসএসএফের দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়।

তারেক রহমান বলেন, অনুষ্ঠানের আগে তিনি এসএসএফের নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেছেন এবং মহড়া প্রত্যক্ষ করেছেন। এই ফায়ারিং রেঞ্জ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০০২ সালের পর এসএসএফের ‘রেড বুক’ সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পুনর্গঠন করে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা হয়েছে। এটি বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার নীতিমালা নির্ধারণের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে। তবে নির্দেশনা অনুসরণের পাশাপাশি সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি এসএসএফ সদস্যদের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এজন্য অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়ন করতে হয়। সমন্বয় যত কার্যকর হবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত বেশি সফল হবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা ভোগান্তির শিকার না হন, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এসএসএফ ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ