ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

৩৬টি পুশ ইন চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে বিজিবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০২৬ জুন ১৭ ১৯:৫১:৩৩

৩৬টি পুশ ইন চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে বিজিবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর ৩৬টি পুশ-ইন (ঠেলে পাঠানো) চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (১৭ জুন) সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফ কর্তৃক পুশ-ইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুশ-ব্যাক করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন প্রতিরোধ, মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে বিজিবির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে মামলাসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

সীমান্ত হত্যা নিয়ে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ অভিযোগ

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে বারবার উত্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্তে নিহতদের পরিবারের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি নেই। তবে বাংলাদেশ সরকার প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে এবং ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির বিষয়ে চাপ অব্যাহত রেখেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ‘ফ্ল্যাগ মিটিং’-এর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তে এ কাজ চলমান থাকলেও ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাতেও বেড়া নির্মাণ পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে।

বিশেষ অভিযানে প্রায় ১১ হাজার গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ১ মে থেকে ৮ জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে মাদক সংক্রান্ত ৭ হাজার ৬৮৮টি মামলায় ১০ হাজার ৮৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ১২৫টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্র মামলায় ২৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরের কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব গ্যাংয়ের অনলাইন কার্যক্রম নজরদারিতে রাখতে ডিএমপির সাইবার ইউনিট নিয়মিত মনিটরিং করছে। একই সঙ্গে মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাইবিরোধী ১১৯টি অভিযানে ২৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গত এক বছরে (জুন ২০২৫ হতে মে ২০২৬) সীমান্ত এলাকায় ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এ সময়ে বিপুল পরিমাণ মাদক, বিদেশি মদ ও বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ পদার্থ উদ্ধার করা হয় এবং ২ হাজার ১৮৯ জনকে আটক করা হয়।

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারের অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন হলেও বর্তমানে সেখানে ৭৭ হাজার ৪০ জন বন্দি রয়েছে।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়া ও বেটিং সাইট বন্ধে বাংলাদেশ পুলিশ, বিটিআরসি, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যার নাম হবে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত