ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে দুটি ফ্রি ট্রেড জোন প্রতিষ্ঠার অনুমোদন

২০২৬ জুন ১৭ ১৮:৫২:২৩

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে দুটি ফ্রি ট্রেড জোন প্রতিষ্ঠার অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে প্রথমবারের মতো দুটি মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর একটি হবে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরের কাছে এবং অন্যটি চট্টগ্রাম বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায়। এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, দেশের অর্থনীতিতে গতি আনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বন্দরভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই দুটি ফ্রি ট্রেড জোন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুটি অঞ্চলে মোট প্রায় ৬০০ একর জমিতে এসব ফ্রি ট্রেড জোন গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে প্রকল্পটি ধারণাগত পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী সময়ে এর বিস্তারিত নকশা, বিনিয়োগ কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ভাষায়, ফ্রি ট্রেড জোন এমন একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক এলাকা, যেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনায় শুল্ক ও করসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল থাকে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক সহজে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

নাসিমুল গনি বলেন, এসব অঞ্চলে বিদেশি জাহাজ পণ্য খালাস, বিক্রি বা পুনঃরপ্তানির সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারাও আন্তর্জাতিক বাজারে সহজে পণ্য সরবরাহ করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, বন্দরের ব্যবহার বাড়বে এবং জাহাজ চলাচলও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি পণ্য ও সেবার দ্রুত পরিবহন সম্ভব হবে। বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির ফলে কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের দাম কমতেও পারে।

দুবাইয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত হলেও মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বাণিজ্যিক সুবিধার কারণে দুবাই বৈশ্বিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশও একই ধরনের পরিবেশ তৈরির দিকে এগোচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এসব ফ্রি ট্রেড জোনে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীরাই অংশ নিতে পারবেন। সেখানে উৎপাদনমুখী শিল্প, গুদামজাতকরণ, লজিস্টিকস, বাণিজ্যিক সেবা এবং পর্যটননির্ভর কার্যক্রমও গড়ে উঠতে পারে।

আনোয়ারায় চায়নিজ ইকোনমিক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন

একই বৈঠকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) স্থাপনের জন্য বিশেষ কোম্পানি গঠন এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন ও ভূমি ইজারা চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

নাসিমুল গনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাধারণত নিজস্ব ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের মধ্যে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। সাংস্কৃতিক নৈকট্যও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সমন্বিত শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও সহজ হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত