ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় গঠনের নির্দেশনা সংবলিত হাইকোর্টের রায় আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। এ বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে সকালে সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানি শুরু হয়। গত ২১ মে রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে।
গত ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এর আগে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায়টি প্রদান করেন।
হাইকোর্টের ওই রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রাখার বিধান বাতিল করা হয়। এর ফলে এসব ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত হওয়ার পথ তৈরি হয়। একইসঙ্গে ২০১৭ সালে প্রণীত জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
রিটকারীদের পক্ষে আদালতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূইঁয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিট দায়ের করেন। পরে ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন।
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত, যা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করা হয়। রিটকারীদের দাবি, এ ব্যবস্থার ফলে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের সংবিধানে এ ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। তবে ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সাংবিধানিক সংশোধনের মধ্য দিয়ে বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদের বিধান বহাল থাকে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২২ জুলাই)
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)