ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আইসিবির লোকসান খুঁজতে বিএসইসির ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি 

২০২৬ জুন ০৭ ২১:২৬:৩৫

আইসিবির লোকসান খুঁজতে বিএসইসির ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারের এক সময়ের অন্যতম লাভজনক এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার শেষ আশ্রয়স্থল ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। তবে গত এক দশকে ক্রমান্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি এক গভীর ও নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। অবস্থা এতটাই নাজুক যে, বর্তমানে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ডিভিডেন্ডও দিতে পারছে না তারা। রাষ্ট্রায়ত্ত এই বড় প্রতিষ্ঠানের এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি ও এর পেছনের কারণ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এক সময়ের লাভজনক ও বাজার রক্ষক আইসিবির কাঁধে এখন চেপে বসেছে শত শত কোটি টাকার লোকসান। এর পাশাপাশি বড় ধরনের প্রভিশন ঘাটতি এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও বাজারে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা, আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্বল তহবিল (ফান্ড) ব্যবস্থাপনার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন বাস্তবতায় সামগ্রিক পুঁজিবাজার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার স্বার্থে আইসিবির সার্বিক কার্যক্রম ও নথিপত্র খতিয়ে দেখবে এই তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএসইসির চার কর্মকর্তার ওপর। তারা হলেন, বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, উপপরিচালক মুহাম্মদ ওয়ারিসুল হাসান রিফাত, সহকারী পরিচালক মতিউর রহমান এবং সহকারী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম সাদ্দাম। বিএসইসি কর্তৃপক্ষ কমিটিকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছে। এই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আইসিবির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইসিবির নিজস্ব আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ঝুলিতে কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের (জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত) অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, আইসিবির সমন্বিত লোকসানের অঙ্ক এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৮ কোটি ৭২ লাখ টাকায়। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) ঠেকেছে ৬ টাকা ৭৯ পয়সায়। অথচ আগের বছরের একই সময়ে আইসিবির সমন্বিত লোকসানের পরিমাণ ছিল ২৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লোকসান দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

তদন্ত কমিটির কাজের পরিধি ও লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম গণমাধ্যমকে জানান, আইসিবির বিগত কয়েক বছরের পুঙ্খানুপুঙ্খ আর্থিক হিসাব, তাদের প্রকৃত সম্পদ ও দায়ের পরিমাণ, লাভ-ক্ষতির খতিয়ান এবং নগদ প্রবাহের (ক্যাশ ফ্লো) বিস্তারিত বিবরণী বিশ্লেষণ করবে এই কমিটি। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন ফান্ডের পারফরম্যান্স ও আর্থিক সক্ষমতাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

শেয়ারবাজার এর অন্যান্য সংবাদ

ফের কমেছেসোনার দাম

ফের কমেছেসোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে আবারও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে... বিস্তারিত