ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বর্ষার আগেই মাঠে সরকার, ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া রোধে ব্যাপক প্রস্তুতি

২০২৬ জুন ০৭ ১৩:৪৮:০৯

বর্ষার আগেই মাঠে সরকার, ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া রোধে ব্যাপক প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে দেশব্যাপী সমন্বিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ চালু করা হচ্ছে এবং চিকিৎসক-নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় একটি ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অন্তত ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে চিকিৎসকদের ভিজিট ফি না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। বর্তমানে সরকারের কাছে প্রায় দুই লাখ ব্যাগ খাবার স্যালাইন মজুত রয়েছে এবং এ মজুত আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে সারাদেশে সচেতনতামূলক র‌্যালি, বাউল গানের মাধ্যমে প্রচারণা, কমিউনিটি মিটিং, উঠান বৈঠক এবং সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) দেশব্যাপী সচেতনতামূলক র‌্যালির পাশাপাশি তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশের সাতটি সিটি করপোরেশনও নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ’ পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সংগীত ও সাংস্কৃতিক উপায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। কোনো বাড়ি, প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে দুই থেকে তিন দিন পরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণ ও সিটি করপোরেশনের সমান দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে পাঁচদিনব্যাপী বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হয়েছে। এর আওতায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্জ্য অপসারণ এবং নিবিড় নজরদারি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোই এর প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, ধর্মীয় নেতাদেরও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে ইমামদের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের আগাম প্রস্তুতি, সিটি করপোরেশনগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের কমেছেসোনার দাম

ফের কমেছেসোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে আবারও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে... বিস্তারিত