ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
‘ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয়েছে আসিফ, নাহিদ, মাহফুজ আলম’
নিজস্ব প্রতিবেদক: কৌশলগত কারণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলম এবং নিজের স্ত্রী ফরিদা আখতারকে পাঠিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নাহিদ, আসিফ ও মাহফুজ নতুন কোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন।
সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের সঞ্চালনায় ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফরহাদ মজহার।
বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী, মাহফুজ, নাহিদ এবং আসিফকে আমি সেই সরকারে থাকতে বলেছি। এটা ছিল কৌশলগত সিদ্ধান্ত। আমি তো বোকা নই, ফলে আমাকে এই লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে। আমার স্ত্রী সেখানে না গেলে কী এমন পরিবর্তন হতো? সেখানে থাকার কারণেই অন্তত কিছু মন্ত্রণালয়ের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে এখন ধারণা দিতে পারছি। অন্য কিছু হোক বা না হোক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কীভাবে পুনর্গঠন করা যায়, সে বিষয়ে এখন আমার পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।’
ফরহাদ মজহার আরও বলেন, ‘নীতির প্রশ্নে আমি এখন যা বলছি, তখনও তাই বলেছি। নতুন কিছু বলছি না। তিনি (ফরিদা আখতার) তার কাজ করেছেন, নিজের লড়াই চালিয়ে গেছেন। যদি তার মন্ত্রণালয়ে কোনো ভুল বা দুর্বলতা থেকে থাকে, সেটা আমাকে বলুন। আমরা অবশ্যই সমালোচনা করব।’
অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা তিন ছাত্র প্রতিনিধির ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন ফরহাদ মজহার। একই সঙ্গে সাবেক এই তিন উপদেষ্টার ওপর নিজের প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘নাহিদকে আমি বারবার বলেছি মন্ত্রণালয় ঠিকমতো চালাতে। কারণ ভবিষ্যতে আমি যেন তার বয়সী আরেকজন তরুণকে মন্ত্রিত্বে আনতে পারি। তারা এত বড় ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু কেউই মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। এখন আমি প্রকাশ্যেই এই অভিযোগ তুলছি।’
আসিফ মাহমুদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আসিফ কোনো মন্ত্রণালয়ই পরিচালনা করেনি। এখন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠছে। আমরা তো চাইনি এমন কিছু শুনতে। আমরা চেয়েছিলাম, তারা দেখিয়ে দিক যে তরুণরাও সফলভাবে মন্ত্রণালয় চালাতে পারে।’
মাহফুজ আলমকে নিয়েও হতাশা প্রকাশ করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘মাহফুজও তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেনি। বন্ধুদের জন্য যে কাজগুলো করা দরকার ছিল, তার কিছুই সে করেনি। তার সময়ে যেসব গণমাধ্যমকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তার অধিকাংশই আওয়ামী লীগের ঘরানার। তাহলে এখন সে কোন মুখে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের কথা বলে?’
তিনি আরও বলেন, ‘তাকে বারবার বলা হয়েছিল টেলিভিশন ও পত্রিকা গড়ে তুলতে, যারা প্রকৃত গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু সে কিছুই করেনি।’
হতাশা প্রকাশ করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আজ যেভাবে আওয়ামী লীগের লোকজন আবার সক্রিয় হয়েছে, সেটা তার আমলেই হয়েছে। এখন এসে বড় বড় বক্তব্য দিচ্ছে—আওয়ামী লীগ ফিরে আসছে। অথচ তাদের মোকাবেলা করতে হলে আগে মতাদর্শিক জায়গায় লড়াই করতে হতো। বাঙালি জাতীয়তাবাদ কীভাবে ফ্যাসিবাদে পরিণত হয়েছে, সেই সমালোচনা দরকার ছিল। কিন্তু তারা সেদিকে না গিয়ে একাত্তরের বিরোধিতায় চলে গেছে।’
ড. মুহাম্মদ ইউনূস যাকে জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, সেই মাহফুজ আলমের সমালোচনাও করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘মাহফুজের চিন্তা ও তত্ত্ব যেমন ক্ষতিকর, তেমনি তার ব্যক্তিগত আচরণও ক্ষতিকর। সে বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেনি। ছাত্রদের মধ্যে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তার পেছনেও মাহফুজের ব্যক্তিগত চরিত্র বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।’
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- প্রজ্ঞাপনের আগে পে স্কেলের বেতন তালিকা
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল কত
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ৪৩ জনের চাকরির সুযোগ
- আগামী ১০ বছরে যেসব চাকরির চাহিদা বাড়বে, জেনে নিন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং, কোন এলাকায় কত
- ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার শারীরিক সম্পর্ক, ৭ বছরের জেল