ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কমলাপুরে উপচে পড়া ভিড়, রাজধানী ছাড়ছে ঘরমুখো মানুষ

২০২৬ মে ২৬ ১০:৪৯:৫২

কমলাপুরে উপচে পড়া ভিড়, রাজধানী ছাড়ছে ঘরমুখো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ট্রেনের হুইসেল, ব্যাগভর্তি প্রস্তুতি আর প্রিয়জনের অপেক্ষা—ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এখন যেন এক আবেগঘন মিলনমেলা। কর্মব্যস্ত নগরজীবন পেছনে ফেলে হাজারো মানুষ ছুটছেন শেকড়ের টানে, আপনজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মজুড়ে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কোথাও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষা, কোথাও আবার শিশুদের উচ্ছ্বাসে মুখর পরিবেশ। ট্রেনের শব্দ আর স্বজনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো স্টেশন এলাকা।

স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীদের হাতে বড় বড় ব্যাগ, কেউ আবার মাথায় মালপত্র নিয়ে ছুটছেন নির্ধারিত ট্রেন ধরতে। অনেকে ছোট শিশুদের কোলে নিয়ে বসে আছেন। দীর্ঘদিন পর পরিবারের কাছে ফেরার আনন্দে ক্লান্তি যেন ছাপিয়ে গেছে সবার মুখে।

জামালপুরগামী এক যাত্রী মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, চাকরির কারণে সারা বছর পরিবারকে সময় দিতে পারেন না। স্ত্রী ও সন্তানদের আগেই গ্রামের বাড়ি পাঠিয়েছেন। অফিস শেষে এবার নিজেও রওনা হয়েছেন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। তার ভাষায়, “মা বারবার ফোন দিয়ে জানতে চাইছে কখন পৌঁছাবো।”

চট্টগ্রামের বাসিন্দা শারমিন আক্তার ভৈরবে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছেন সন্তানকে নিয়ে। তিনি বলেন, গ্রামের পরিবেশ, আত্মীয়স্বজন আর খোলা মাঠের টানেই ঈদ তাদের কাছে বিশেষ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে তার সন্তান ট্রেনে চড়ে গ্রামে যেতে ভীষণ পছন্দ করে।

ঈদযাত্রা নিয়ে কিছুটা ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন যাত্রীরা। বেসরকারি চাকরিজীবী রেজাউল করিম বলেন, টিকিট পেতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। তারপরও ট্রেনে যাত্রা স্বস্তিদায়ক, কারণ সড়কের দীর্ঘ যানজট এড়ানো যায়।

স্টেশনের বাইরে থেকেও চোখে পড়েছে মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা। অনেকে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই স্টেশনে চলে এসেছেন। তাদের মতে, শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতেই আগেভাগে চলে আসা নিরাপদ।

খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, ঢাকার যান্ত্রিক জীবনে ঈদের ছুটিটাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সবচেয়ে বড় সুযোগ। বাবা-মা ও আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করেন তিনি।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে স্টেশনে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের যাত্রীদের সহায়তায় তৎপর থাকতে দেখা গেছে। টিকিট যাচাই থেকে শুরু করে প্ল্যাটফর্মে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও পালন করছেন তারা।

তবে টিকিট সংকটের অভিযোগও রয়েছে অনেকের। রাসেল আহমেদ জানান, অনলাইনে কাঙ্ক্ষিত দিনের টিকিট না পেয়ে পরে অন্য দিনের টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। আরেক যাত্রী কামরুজ্জামান বাবু বলেন, টিকিট না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। তবু পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারছেন, সেটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

সাত দিনের ছুুটিতে সীমিত পরিসরে আজও খোলা ব্যাংক

সাত দিনের ছুুটিতে সীমিত পরিসরে আজও খোলা ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও পুরোপুরি বন্ধ থাকছে না দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম। তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ... বিস্তারিত