ঢাকা, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর  নামাজ আদায়

২০২৬ মার্চ ২১ ১০:১০:১৪

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর  নামাজ আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

এই জামাতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিলেন। সর্বশেষ ১৯৮৯-৯০ সালে কাজী জাফর আহমদ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন নারীরা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়াকে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমেদ এবং নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম কেউ এখানে ঈদের নামাজ আদায় করলেন।

ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা পাঠ করা হয় এবং পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা দলে দলে জাতীয় ঈদগাহের দিকে আসতে থাকেন। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে জামাত শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে থেকেই মুসল্লিদের প্রবেশ শুরু হয়। পল্টন মোড় থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে ঈদগাহ পর্যন্ত দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে মুসল্লিদের প্রবেশ করতে দেখা যায়। একইভাবে মৎস্য ভবন এলাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিক থেকেও সারিবদ্ধভাবে মুসল্লিরা ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে ঈদগাহ ময়দান জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়। জামাতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি অযুখানা, চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ছিলেন নারী মুসল্লি।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত