ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২
শবে বরাতে কি হালুয়া-রুটি দেওয়া জায়েজ?
ডুয়া ডেস্ক : শবে বরাত একটি মহিমান্বিত রাত, যা ১৪ শাবান দিবাগত রাতে পালিত হয়। হাদিসের ভাষায় এ রাতকে বলা হয় ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’, যা আমাদের সমাজে ‘শবে বরাত’ নামে পরিচিত। ‘শবে বরাত’ ফারসি শব্দ, যেখানে ‘শব’ মানে রাত এবং ‘বরাত’ মানে নাজাত বা মুক্তি—অর্থাৎ এটি মুক্তির রজনী।
বিভিন্ন সহিহ হাদিসে এ রাতের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)
রাতটি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাতেন সলফে সালেহিনরা। রাতভর নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, তসবিহ-তাহলিল পাঠ, তওবা-ইস্তেগফার ইত্যাদি আমলে তাঁরা মশগুল থাকতেন। শবে বরাতে একাকী কবর জেয়ারত করাও মোস্তাহাব আমল।
মানুষকে খাওয়ানো, দান-সদকা সবসময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। শবে বরাতের রাতেও এ আমল করা যাবে এবং এর কারণে সওয়াব লাভ হবে। সুতরাং প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন বা দরিদ্রদের হালুয়া-রুটিসহ যেকোনো খাবার খাওয়ানো, হাদিয়া পাঠানো নাজায়েজ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তবে হালুয়া-রুটি বানানো, খাওয়া ও বিরতরণকে শবে বরাতের জরুরি বা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ আমল মনে করলে তা বিদআত গণ্য হবে। কেননা হালুয়া রুটি বানানো, খাওয়া বা বিতরণ করা শবে বরাতের বিশেষ কোনো আমল নয়।
শবে বরাতের বিশেষ আমল মনে না করলে বা এ রকম ভুল ধারণা সৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা না থাকলে মানুষকে হালুয়া-রুটিসহ যেকোনো খাবার খাওয়ানো ও বিরতরণ করা নাজায়েজ নয়।
এরপরও আলেমরা এ ধরনের যেকোনো বিষয় নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলেন। যেন পরবর্তী প্রজন্ম বড়দের দেখাদেখি কোনো কিছুকে রসমে পরিণত করতে না পারে। মূলত শয়তান উঁৎ পেতে থাকে মুসলিম সমাজে বিদআত ছড়িয়ে দিতে।
প্রসিদ্ধ তাবেয়ি সুফিয়ান সাওরি (রহ) বলেন- ‘ইবলিসের নিকট নাফরমানির চেয়েও বিদআত বেশি প্রিয়। কারণ নাফরমানি থেকে তাওবা করার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু বিদআত থেকে তাওবা করার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।’ (শাতিবি, আলইতিসাম: ১/১১; ইমাম সুয়ুতি, আলআমরু বিল ইত্তিবা পৃ-১৯)
শবে বরাত নিয়ে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘শবে বরাতে হালুয়া-রুটি বানালে আরশের নিচে ছায়া পাওয়া যাবে।’ অথচ রাসুলুল্লাহ (স.)-এর হাদিসের সঙ্গে এর দূরতম সম্পর্ক নেই। আবার কাউকে বলতে শোনা যায়, ওহুদ যুদ্ধে নবীজির দানদান মোবারক শহীদ হওয়ায় কিছুদিন তিনি শক্ত খাবার খেতে পারেননি—সেই ঘটনার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এই দিনে ঘটা করে হালুয়া রুটি খাওয়া হয়। অথচ ওহুদ যুদ্ধ শাওয়ালের ৭ তারিখে, শাবান মাসের ১৫ তারিখের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
তাই আলেমদের পরামর্শ হলো- শবে বরাতে ঘটা করে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন বা হালুয়া-রুটি খাওয়ানো থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। যেমনটি একবার শুরু হওয়ার কারণে হালুয়া-রুটি বানানোকে শবে বরাতের ইবাদত মনে করে থাকেন কেউ কেউ।
তাই উত্তম হলো- এসবের পেছনে সময় নষ্ট না করে মূল ইবাদতের দিকে মনোনিবেশ করে শবে বরাতের ফজিলত লাভ করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের যাবতীয় ত্রুটি থেকে রক্ষা করুন। কোরআন সুন্নাহর নির্দেশনা যথাযথ মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ব্রাজিল বনাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ: জেনে নিন কবে, কোথায় খেলা
- বাংলাদেশ বনাম ভারত ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল, লাইভ দেখবেন যেভাবে
- আর্জেন্টিনা বনাম জাম্বিয়া: কবে, কখন জানুন সময়সূচী
- চলছে বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ, সরাসরি Live দেখুন এখানে
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ আজকের খেলা
- বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ শেষ, জানুন ফলাফল
- সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ: নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ
- আজ বাংলাদেশ বনাম নেপাল সাফ সেমি ফাইনাল: সরাসরি লাইভ দেখবেন যেভাবে
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ: নেপালের মুখোমুখি বাংলাদেশ, জেনে নিন কবে, কোথায় খেলা
- ঢাবি চারুকলা অনুষদে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু
- রাজধানীতে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
- বাংলাদেশ বনাম থাইল্যান্ড ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ আজকের খেলা
- অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে? যা জানা গেল
- শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প পথ খোঁজার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর