ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হলেন ড. ওবায়দুল ইসলাম

২০২৬ মার্চ ১৬ ১৬:২৭:৫৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হলেন ড. ওবায়দুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শীর্ষপদে বড় পরিবর্তন এসেছে। দেশের শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠের নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট পদার্থবিদ অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ড. ওবায়দুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁর মূল ভিত্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই; সেখানে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। নতুন এই আদেশের ফলে তিনি পুনরায় নিজ বিদ্যাপীঠের শীর্ষ নেতৃত্বে ফিরে আসছেন। অন্যদিকে, তাঁর এই বদলির ফলে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য নতুন উপাচার্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খানের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তিনি ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের কাছে তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ সে সময় বলেছিলেন, ‘উপাচার্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ তাঁর সরে দাঁড়ানোর প্রেক্ষাপট আগেভাগেই স্পষ্ট করেছিলেন। নির্বাচনের প্রাক্কালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, ক্যাম্পাসে ‘আপৎকালীন পরিস্থিতি অনেকটাই দূর হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে’। এ অবস্থায় তিনি মনে করেছিলেন দায়িত্ব হস্তান্তরের উপযুক্ত সময় এখনই। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য পথ সুগম করা, যাতে তারা ‘তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশাসন সাজিয়ে নিতে পারে’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে অধ্যাপক নিয়াজ সব সময় সচেষ্ট ছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, ‘কোনো ধরনের শূন্যতা তৈরি না হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে’ সে লক্ষ্যে তিনি প্রয়োজনে সরকারকে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত। তবে প্রশাসনিক ব্যস্ততা শেষ করে তিনি আবারও একাডেমিক কর্মকাণ্ডে ফিরতে চান। তিনি সরকারকে বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়েছিলেন যেন তাঁকে ‘ডেপুটেশন থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজ বিভাগে শিক্ষকতার কাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়’। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করে নতুন নিয়োগ দেওয়ায় সেই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটল।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত