ঢাকা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তুলব: প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ মার্চ ১৪ ১৩:২৭:০১

সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তুলব: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বীকৃতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শনিবার (১৪ মার্চ) মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগের সূচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই বিশেষ আয়োজনে এমন মানুষ একত্রিত হয়েছেন, যাদের প্রতি সমাজ কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই শ্রদ্ধাশীল এবং যারা মানুষের জীবনের কঠিন সময়ে সঠিক পরামর্শ দেন।’

তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানে ইসলাম ধর্মের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনদের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন। সরকারের লক্ষ্য, সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে এবং আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে পয়লা বৈশাখ থেকে ফার্মার্স কার্ড চালু হবে। ১৬ মার্চ থেকে দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। পাশাপাশি আজ থেকে ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের মাসিক অর্থ সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা হলো, যা ধাপে ধাপে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য মানুষকে দুর্বল রাখা যায় না। একই সঙ্গে সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলিও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে, যা ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। অতীতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি ও মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারও সম্মানী প্রদানসহ ধর্মীয় নেতাদের দক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে।

প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় নেতাকে মাসিক সম্মানী দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় একজন ইমাম বা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে তিনি বলেন, ‘মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করবে। একসঙ্গে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য।’

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত