ঢাকা, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২

রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে মুয়াজ্জিন নি'হত

২০২৬ মার্চ ০৮ ১১:২২:০২

রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে মুয়াজ্জিন নি'হত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদের নামাজে ইমামতি কে করবেন এ নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. আলাউদ্দিন (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্থানীয় আলাউদ্দিন মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।

শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় অবস্থিত উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিহত আলাউদ্দিনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা কিছু সময়ের জন্য রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয় এবং স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়েও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের নামাজে কে ইমামতি করবেন তা নির্ধারণ করতে সন্ধ্যার পর মডেল মসজিদে মুসল্লিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আলাউদ্দিনের ছেলেদের সঙ্গে বিএনপি কর্মী ওমর ফারুক, মো. রাসেল, আব্দুল করিম ও আব্দুল কুদ্দুসসহ কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলাউদ্দিন সেখানে গিয়ে তার ছেলেদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাকে ফেলে দিয়ে তার বুকের ওপর উঠে বসেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।

উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল আউয়াল বলেন, আলাউদ্দিনের পুরো পরিবারই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তিনিও তাদের দলের কর্মী ছিলেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, আলাউদ্দিন নিজে বিএনপির সমর্থক ছিলেন, যদিও তার ছেলেরা জামায়াতে ইসলামী করেন।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ মেটাতে গিয়ে আলাউদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্ট্রোকে মারা যেতে পারেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছিল, পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আলাউদ্দিনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ বাড়িতে নিয়ে যান। যদি কেউ অভিযোগ করেন, তবে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে।

এ ঘটনার পর মোহনপুরের কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো ঘটনাস্থলে গেলে জামায়াতকর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে এ বিষয়ে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত