ঢাকা, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

জুলাই শহীদের সন্তানদের শিক্ষাভাতা দেবে সরকার: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

২০২৬ মার্চ ০২ ১৫:০২:৪১

জুলাই শহীদের সন্তানদের শিক্ষাভাতা দেবে সরকার: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন বাংলাদেশের’ স্বপ্নযাত্রায় যারা জীবন দিয়েছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাঁদের উত্তরসূরিদের জন্য এক অনন্য সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবে শহিদদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন যাতে অর্থের অভাবে বা অভিভাবকহীনতায় ঝরে না পড়ে, সেজন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিশেষ ‘শিক্ষাভাতা’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সরকারের এই নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাঁর সাথে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ব্রিফ করেছি, তিনিও কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কনসার্নড। তিনি জানতে চেয়েছেন এখন পর্যন্ত কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান যে ইতিমধ্যেই আহতদের প্রকৃত তালিকা যাচাই করে তাঁদের জন্য সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী জানান, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের মাধ্যমে আমরা সিস্টেমেটিক্যালি জুলাইতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের কল্যাণ এবং পুনর্বাসনের জন্য কয়েকটা স্কিম হাতে নিয়েছি। জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে যাদের ছেলেমেয়েরা, শহীদ পরিবারের ছেলেমেয়েদের যাদের লুক আফটার হয় না, তারা অনেকেই স্কুল থেকে ড্রপআউট হয়ে গেছে, তাদের আমরা আবার শিক্ষাভাতা দিয়ে স্কুলে যেন তারা পড়াশোনা করতে পারে সে ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করব।’ এছাড়া যারা শারীরিকভাবে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের স্বাবলম্বী করতে ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যে ধরণের পরামর্শ দিয়েছেন সে প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাপ্রিশিয়েট করেছেন। তিনি আরও জানতে চেয়েছেন এবং তিনিও আরও সাজেশন দিয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে; যার বাবা মারা গেছে সেজন্য ছেলেটা যেন একেবারেই স্কুল ড্রপআউট হয়ে অশিক্ষিত না হয়, তার শিক্ষার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন। আর পুনর্বাসন কী ধরনের হবে, যার হাত নেই পা নেই কিন্তু মোটামুটি কর্মক্ষম আছে, কী ধরনের প্রজেক্ট দিলে... আমরা বিআরডিবি বা অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে যেন... তারা মোটামুটি সচ্ছলভাবে, স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে সংসার পরিচালনা করতে পারে সেজন্য তিনি সাজেশন দিয়েছেন।’

কেবল জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণই নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমানো ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ তালিকা পরিচ্ছন্ন করার দিকেও কঠোর নজর দিচ্ছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ তথ্য দেন যে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রকৃত সংখ্যা ১ লাখ থাকলেও তা বর্তমানে আড়াই লাখে দাঁড়িয়েছে, যার বড় অংশই অবৈধভাবে সুবিধা নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় ১৬ জন সচিব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল দেশের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত তারা এই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করছে। এরই মধ্যে ৩০০ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে তারা বাদ দিয়েছে এবং এটা কনস্ট্যান্ট প্রসেস। আমরা চেষ্টা করব। যে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা অন্যায়ভাবে আর্থিক যেসব সুবিধা নিয়েছেন, সেগুলো আবার ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা চেষ্টা করব।’

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত