ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২
গ্যাস দুর্ঘটনায় দগ্ধদের অবস্থা সংকটাপন্ন, নজরদারি জোরদারের ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় সাম্প্রতিক গ্যাস লিকেজ দুর্ঘটনায় দগ্ধদের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে সাতজন উচ্চঝুঁকিতে রয়েছেন এবং অনেকের শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইনহেলেশন ইনজুরির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। একই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটায় গ্যাস লাইন ও সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণের কথাও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামের ঘটনায় আহতদের ঢাকায় নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়। পরে সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহাস নামে ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোর মারা যায়। বর্তমানে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের অবস্থা নিজে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনজনের শরীরের প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছিল, তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। অন্যদের অনেকেরই শরীরের ৬০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে এবং কয়েকজন আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চিকিৎসকদের মতে, আহতদের সবারই ইনহেলেশন ইনজুরি রয়েছে, যা দগ্ধজনিত জটিলতা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং চিকিৎসাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দিতেও পৃথক গ্যাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর শরীরের ৫০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। তাদেরও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং ইনহেলেশন ইনজুরির চিকিৎসা চলছে।
ঘনঘন গ্যাস লিকেজের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায়ই কোথাও না কোথাও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে, যা মানবসম্পদের জন্য বড় ঝুঁকি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি জানান, খুব শিগগিরই শিল্প, স্বাস্থ্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ লাইনের ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং লিকেজ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করার বিষয়ে আর দেরি করা হবে না।
চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি
বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই হাসপাতাল জরুরি প্রস্তুতি নেয়া হয়। অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি রোগীদের সবার শরীরের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে; কয়েকজনের ৮০ শতাংশের বেশি এবং কারও ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পোড়া রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বলেন, চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত বেড, ওষুধ ও সরঞ্জাম মজুত আছে। অতিরিক্ত কিছু লাগলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন এবং দগ্ধদের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবিতে স্নাতক ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি, যারা আবেদন করতে পারবেন
- ঢাবি উপাচার্য পদের আলোচনায় দুই নারী শিক্ষক
- কে হচ্ছেন ঢাবির পরবর্তী উপাচার্য, আলোচনায় ৬ অধ্যাপকের নাম
- ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যেভাবে আবেদন করবেন
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: সুপার এইটের দুই গ্রুপ ও পূর্ণাঙ্গ সূচি দেখুন এখানে
- সুন্নাহ মেনে সেহরি খাওয়ার সময় ও বিশেষ কিছু নিয়ম
- পবিত্র রমজানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সময়সূচি প্রকাশ
- রমজান মাসের ছুটি নিয়ে যা জানাল মাউশি
- কাল থেকে বন্ধ সব স্কুল, রমজানে ছুটির নতুন প্রজ্ঞাপন
- দুর্ঘটনার কবলে মেসুত ওজিল ও বিলাল এরদোয়ানের গাড়িবহর
- হেটমায়ারের ঝড়ে কপাল পুড়ল জিম্বাবুয়ের, গড়ল রেকর্ড
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে রবি
- রমজানের প্রথম দিনেই ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ
- বিএসইসি'র বাঁধা, ডিভিডেন্ড দিতে পারছে না তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ