ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২

প্রাথমিকের মূল্যায়ন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল সরকার

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ২১:৪২:৩৪

প্রাথমিকের মূল্যায়ন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরণের পরিবর্তন এনেছে সরকার। চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই নতুন পদ্ধতি কার্যকর হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে শুধু লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক নিয়মিত পারফরম্যান্স বা ‘ধারাবাহিক মূল্যায়ন’কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি) গত ২৬ জানুয়ারি এক সভায় এই পরিমার্জিত মূল্যায়ন কাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন মূল্যায়ন কাঠামোর বিস্তারিত:

১. প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি: সব বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (ক্লাস পারফরম্যান্স) এবং সামষ্টিক মূল্যায়নের (পরীক্ষা) অনুপাত হবে ৫০:৫০। অর্থাৎ মোট নম্বরের অর্ধেক আসবে নিয়মিত ক্লাসের কার্যক্রম থেকে।

২. তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি: এই স্তরে ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষার ওপর থাকবে ৭০ শতাংশ নম্বর।

মূল্যায়নের প্রক্রিয়া:

ধারাবাহিক মূল্যায়নের আওতায় শিক্ষার্থীর ক্লাসে নিয়মিত অংশগ্রহণ, বাড়ির কাজ, দলগত কাজ, আচরণ এবং নির্দিষ্ট দক্ষতাগুলো যাচাই করবেন শিক্ষকরা। আর সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান যাচাই করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই মূল্যায়ন নির্দেশিকা দ্রুতই সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে যাতে শিক্ষক ও অভিভাবকরা এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারেন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন