ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

সাবেক সেনাপ্রধানের জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৮:৩১:৫৯

সাবেক সেনাপ্রধানের জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূইঁয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মে. জে. (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নানা তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া গত দেড় দশকের আওয়ামী শাসনামলে সেনাবাহিনীতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানা স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ও উন্মোচিত হয়েছে।

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, “র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) দায়িত্ব নেওয়ার পর জিয়াউল অতিরিক্ত উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠেন। এই দায়িত্ব পালনকালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “র‍্যাবের ডিজি বেনজীরের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে জিয়া এডিজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট (এএসইউ) সূত্রে জানা যায়, কর্নেল জিয়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করেছেন। নিজের আবাসিক টাওয়ারে তিনি গার্ড রাখেন, বাসায় অস্ত্র এবং সিসিটিভি বসান। এরপরও তাকে গার্ড সরানো, ক্যামেরা খুলে ফেলা এবং অফিসিয়াল কোয়ার্টারের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়, কিন্তু পরবর্তীতে তার আচরণ আরও উচ্ছৃঙ্খল হয়।”

ইকবাল করিম জানান, “ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল আমাকে বলেন, জিয়ার সঙ্গে কথোপকথনে মনে হয় যেন তিনি এমন একজনের সঙ্গে কথা বলছেন যার মস্তিষ্ক পাথর দিয়ে ভরা। নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারেক সিদ্দিকী ও অন্যান্য ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রভাবের কারণে কর্নেল জিয়া আমার নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তাকে রেললাইনের পশ্চিম পাশের ক্যান্টনমেন্টে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করি। পূর্ব পাশের আবাসনে তাকে ছাড় দেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৯৬-২০০১ সালের ভুল পুনরাবৃত্তি এড়াতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদক্ষেপ নেন। সেনাবাহিনীতে যারা স্বাধীনচেতা বা মেধাবী ছিলেন, তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। তাদের জায়গায় আনুগত ও অযোগ্য অফিসার বসানো হয়। ২০০৯ সাল থেকে একদল নিরেট অনুগত অফিসার শেখ হাসিনার এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।”

সাবেক সেনাপ্রধানের জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, “নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিকী গুরুত্বপূর্ণ পদোন্নতি ও কেনাকাটার ফাইলের অনুমোদন নিয়ন্ত্রণ করতেন। ডিজিএফআই, এনএসআই, এএফডি, বিজিবি, আনসার, এনটিএমসি, ডিজিডিপি, এবং র‍্যাব-এর ওপর তার কর্তৃত্ব কায়েম হয়। বাধা পেলে পূর্বতন কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে নিজের অনুগত অফিসার বসানো হয়। এই সংস্থাগুলো গুম, খুন, অপহরণ, জমি দখল, চাঁদাবাজি, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।”

উল্লেখ্য, গত ১৫ বছরে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে খুনের অভিযোগে মে. জে. (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ১৪ জানুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেছেন। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া সাক্ষ্য দেবেন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত