ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

ভরা মৌসুমেও চড়া সবজির দাম, মুরগিতে স্বস্তি

২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১১:৪৯:১৩

ভরা মৌসুমেও চড়া সবজির দাম, মুরগিতে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভরা শীতের মৌসুমেও সবজির বাজারে স্বস্তি মিলছে না। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব শীতকালীন সবজির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে টমেটোর দাম ক্রেতাদের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। অন্যান্য সবজির দামও কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নাখালপাড়া, হাতিরপুল ও মিরপুর-১১ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম আগের তুলনায় বেশি। সরবরাহ থাকলেও দামের চাপ কমেনি।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, তীব্র শীতের কারণে কৃষকরা নিয়মিতভাবে ক্ষেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না। ফলে বাজারে সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের মতে, তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে সবজির দামও কমে আসবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ দিনে আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও জানানো হয়েছে। তীব্র শীতের প্রভাবে সার্বিক জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী জামান মিয়া জানান, ঢাকার বাইরে থেকে সবজি আসছে কম। শীতের তীব্রতায় কৃষকরা মাঠে যেতে পারছেন না, ফলে চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে বিলম্ব হচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাজারে।

এক সপ্তাহ আগে যেখানে মাঝারি আকারের ফুলকপি প্রতি পিস ১৫ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। প্রতিকেজি মুলা ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, বেগুন ৬০ টাকায়। শিমের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এখন ৫০ থেকে ৭০ টাকা। আলুর দামও কিছুটা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শালগম, পেঁপে ও ব্রকলির দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

এ সময় সাধারণত টমেটোর দাম ক্রেতার নাগালে থাকলেও এবার পাকা, কাঁচা ও আধাপাকা—সব ধরনের টমেটোই বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। গত সপ্তাহে পাকা টমেটোর দাম ছিল ৮০ টাকা। ঢেঁড়স ও পটলের দাম কেজিতে ৯০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

সবজি ক্রেতা আলী হোসেন বলেন, ‘সবজির দাম এমনিতেই বাড়তি, সামনে রোজা এলে আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।’ আরেক ক্রেতা বলেন, ‘এই মৌসুমে টমেটোর দাম থাকার কথা ৪০-৫০ টাকা। অথচ এখন দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলেন ঠান্ডায় টমেটো পাকছে না, অথচ কৃষকরা ন্যায্য দাম পায় না—এটা বুঝি না।’

তবে স্বস্তির খবর হলো—পেঁয়াজ, ডিম ও মুরগির বাজার আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। আগের মতোই প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং সোনালি জাতের মুরগি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৭০ থেকে ২০০ টাকায়, পাবদা ৪০০ থেকে ৫৩০ টাকা, কৈ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। রুই মাছের দাম কেজিতে ৩২০ থেকে ৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, কাতলা ৩৪০ থেকে ৪৪০ টাকা এবং শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৬৪০ টাকা কেজিতে।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত