ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

উপস্থাপিত হলো জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৬-২০৫০

২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ২২:০২:৩৩

উপস্থাপিত হলো জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৬-২০৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত মহাপরিকল্পনা ২০২৬-২০৫০’ উপস্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনাটি তুলে ধরে।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত গবেষণার জন্য একটি পৃথক ও শক্তিশালী স্বায়ত্তশাসিত ইনস্টিটিউশন তৈরির নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট হতে হবে। এটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থেকে একটি স্বাধীন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে, যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে এবং সরকারকে পলিসি তৈরিতে সাহায্য করবে।”

অতীতের অপরিকল্পিত উন্নয়নের সমালোচনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আগে যা হয়েছে সবই খাপছাড়া ছিল। অনেক কিছু ভুল লোকেশন ও স্ট্রাকচারে হয়েছে। এখন থেকে সবকিছু একটি কাঠামোর মধ্যে হতে হবে। শুধু একভাবে হয়ে আসছে দেখেই সেই পথে যেতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। আমাদের একদম শুরু থেকে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে।”

মহাপরিকল্পনার মূল দিকসমূহ:

পরিকল্পনাটি ২০২৬ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপে (২০২৬-২০৩০) অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং রিফাইনারি ও কৌশলগত জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, ভূ-তাপীয় (জিওথার্মাল) এবং সমুদ্র তরঙ্গভিত্তিক শক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনাও এতে স্থান পেয়েছে।

চাহিদা ও পরিবেশ:

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫৯ গিগাওয়াটে পৌঁছাবে। তবে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বার্ষিক ৬৪.৫ মিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা সম্ভব হবে।

বিনিয়োগ ও সংস্কার:

মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০২৬-২০৫০ মেয়াদে জ্বালানি খাতে ৭০-৮৫ বিলিয়ন এবং বিদ্যুৎ খাতে ১০৭.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। ইতোমধ্যেই সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘কুইক রেন্টাল’ আইন বাতিল করা হয়েছে এবং মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ও রিনিউবেল এনার্জি পলিসি ২০২৫ গ্রহণ করা হয়েছে।

সভায় জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত