ঢাকা, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

খালেদা জিয়াকে দেখতে আসা সমর্থক ও ভক্তদের ভিড় কমানোর আহ্বান

২০২৫ নভেম্বর ৩০ ১৪:৫২:৪৭

খালেদা জিয়াকে দেখতে আসা সমর্থক ও ভক্তদের ভিড় কমানোর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক :বিএনপির বারবারের অনুরোধ সত্ত্বেও এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ধীরে ধীরে জড়ো হচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। নেত্রীকে সরাসরি দেখা না গেলেও, তারা তাঁর শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ খবর জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অসুস্থতার খবর ঘিরে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং প্রার্থনাই সমর্থকদের প্রধান ভরসা।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালের সামনের দৃশ্য সরেজমিনে দেখা গেছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি–অবনতির দোলাচল অব্যাহত রয়েছে। তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত বহুজাতিক মেডিকেল বোর্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রাজনৈতিক অঙ্গন এবং পরিবারে উদ্বেগের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের বাইরে সমর্থকদের আগ্রহও বেড়ে গেছে।

হাসপাতালের প্রবেশপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর সতর্কতায় অবস্থান নিয়েছে। টেলিভিশন সাংবাদিকরা ক্যামেরা সেটআপ করেছেন, আর বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সমর্থকরা ফুটপাত ও সড়কের একাংশে দাঁড়িয়ে অবস্থান করছেন। তারা সরাসরি হাসপাতালে প্রবেশ করতে না পারলেও, কাছাকাছি অবস্থানটিকে দায়িত্ববোধপূর্ণ নীরব উপস্থিতি হিসেবে দেখছেন।

কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে আসা সমর্থকরা হাসপাতালে বসে একটিমাত্র দোয়া করছেন—‘উনি ভালো হোক’। নাজমুল আলম নামক এক নেতা বলেন, “আমাদের প্রিয় নেত্রী মৃত্যুশয্যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চাইলেই আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। তাই দূরে দাঁড়িয়ে হলেও আমরা এখানে রয়েছি।” অন্য এক সমর্থক জানান, “উনার শারীরিক অবস্থার ওঠানামা শুনে দোয়া করি।”

টিপু সুলতান নামের এক খালেদাপ্রেমী দুইদিন ধরে হাসপাতালের সামনে রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে নিজের ফুসফুস দিয়েও নেত্রীকে বাঁচাতে রাজি। ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেনে এসে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছানো তাঁর মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া যদি বাঁচেন এবং ডাক্তাররা অনুমতি দেন, আমি আমার সব শক্তি দিয়ে সাহায্য করব।”

তবে বিএনপি নেতারা হাসপাতালের বাইরে ভিড় না করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ভিড় চিকিৎসা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, তাই পরিস্থিতি শান্ত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের নেত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য গণমাধ্যমে জানাবেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং অন্যান্য সিদ্ধান্ত জানাবেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

হাসপাতালের সামনের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং প্রবেশপথে ব্যারিকেড রাখা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, ভিড় যেন হাসপাতালের কাজের ক্ষেত্রে বিঘ্ন না ঘটায়, সেটাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও জানিয়েছেন, প্রতিদিনের রোগীসেবা অব্যাহত রাখতে পরিস্থিতি শান্ত রাখা অত্যাবশ্যক।

ডুয়া/নয়ন

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত