ঢাকা, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
কর্মবিরতিতে শিক্ষাব্যবস্থা ভাঙন, দুই কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক :নির্বাচিত আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় দুই কোটির বেশি শিক্ষার্থী এই অবস্থার সরাসরি প্রভাব অনুভব করছে। করোনাকালের শিখন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার আগেই বারবার শিক্ষক আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষত বার্ষিক পরীক্ষার আগে এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারের ১ কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার শিক্ষার্থী কর্মবিরতির কারণে পরীক্ষার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১১তম বেতন গ্রেড, দ্রুত স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠন ও অন্যান্য দাবিতে এ বছর তিন দফায় পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে গেছেন। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন জানিয়েছেন, পুলিশের হামলায় একজন শিক্ষক নিহত ও দেড় শতাধিক আহত হওয়ার পরও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় পুনরায় আন্দোলনে যেতে হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেও শিক্ষক আন্দোলন ও কর্মবিরতি তীব্র প্রভাব ফেলেছে। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। অক্টোবর মাসে এই শিক্ষকরা বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে ৮ দিন ধরে কর্মবিরতিতে ছিলেন। অন্যদিকে, নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রাজধানীতে ২৫ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়েছেন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাতেও একই চিত্র। ইবতেদায়ি, দাখিল ও আলিম পর্যায়ের মোট ৩৭ লাখ ৭৪ হাজার শিক্ষার্থী এবং কারিগরি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী আন্দোলনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫ লাখ ৭১ হাজার, যেখানে সহকারী শিক্ষকরা নতুন পদসোপান, ১১তম গ্রেড ও স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দাবি আদায়ে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শিক্ষকদের দাবিগুলো যৌক্তিক হলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে শিক্ষা সংকট দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার ক্ষতি নিরূপণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ ঘোষণা করেছে, ৩০ নভেম্বর থেকে দাবি পূরণ না হলে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলবে এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশন কর্মসূচিও শুরু হবে।
চলমান আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে দেশব্যাপী শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে।
ডুয়া/নয়ন
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ২য় ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের খেলা চলছে: ব্যাটিংয়ে টাইগাররা-দেখুন সরাসরি
- সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের রোমাঞ্চকর খেলাটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৪ এপ্রিল)
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম
- শীর্ষ ১০ ইহুদিবিদ্বেষী প্রভাবশালীদের তালিকা প্রকাশ করল ইসরাইল
- সময় কমিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সিদ্ধান্ত
- সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশাল সুখবর
- রেকর্ড মুনাফা করে ডিভিডেন্ডে চমক দেখাল ইস্টার্ন ব্যাংক
- কপার টি: নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
- শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দেশবাসীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের নববর্ষের শুভেচ্ছা
- এক মাসেও অফিস মেলেনি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের
- ঢাবির ক্ষণিকা বাস দু/র্ঘটনায় আ/হত ৮ শিক্ষার্থী
- ৮,০০০ টাকা করে বৃত্তি দেবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট