ঢাকা, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২
কর্মবিরতিতে শিক্ষাব্যবস্থা ভাঙন, দুই কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক :নির্বাচিত আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় দুই কোটির বেশি শিক্ষার্থী এই অবস্থার সরাসরি প্রভাব অনুভব করছে। করোনাকালের শিখন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার আগেই বারবার শিক্ষক আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষত বার্ষিক পরীক্ষার আগে এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারের ১ কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার শিক্ষার্থী কর্মবিরতির কারণে পরীক্ষার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১১তম বেতন গ্রেড, দ্রুত স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠন ও অন্যান্য দাবিতে এ বছর তিন দফায় পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে গেছেন। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন জানিয়েছেন, পুলিশের হামলায় একজন শিক্ষক নিহত ও দেড় শতাধিক আহত হওয়ার পরও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় পুনরায় আন্দোলনে যেতে হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেও শিক্ষক আন্দোলন ও কর্মবিরতি তীব্র প্রভাব ফেলেছে। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। অক্টোবর মাসে এই শিক্ষকরা বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে ৮ দিন ধরে কর্মবিরতিতে ছিলেন। অন্যদিকে, নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রাজধানীতে ২৫ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়েছেন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাতেও একই চিত্র। ইবতেদায়ি, দাখিল ও আলিম পর্যায়ের মোট ৩৭ লাখ ৭৪ হাজার শিক্ষার্থী এবং কারিগরি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী আন্দোলনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫ লাখ ৭১ হাজার, যেখানে সহকারী শিক্ষকরা নতুন পদসোপান, ১১তম গ্রেড ও স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দাবি আদায়ে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শিক্ষকদের দাবিগুলো যৌক্তিক হলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে শিক্ষা সংকট দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার ক্ষতি নিরূপণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ ঘোষণা করেছে, ৩০ নভেম্বর থেকে দাবি পূরণ না হলে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলবে এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশন কর্মসূচিও শুরু হবে।
চলমান আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে দেশব্যাপী শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে।
ডুয়া/নয়ন
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ: রেজাল্ট দেখুন এক ক্লিকে
- ইবতেদায়ি বৃত্তির ফল প্রকাশ: মোট বৃত্তি পেল ১১ হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী
- সুপার এইটে পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড, যেভাবে লাইভ দেখবেন
- পুলিশে ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ: আবেদনের যোগ্যতা ও নিয়মাবলী
- প্রকাশিত হলো ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল, দেখুন এখানে
- বিএসইসি'র বাঁধা, ডিভিডেন্ড দিতে পারছে না তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে ঢাবির যুগান্তকারী ‘লস রিকভারি প্ল্যান’
- হঠাৎ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ঢাকা
- বিক্রিতে ধস, অথচ শেয়ার দরে উল্লম্ফন: জি কিউ বলপেনের রহস্য কী?
- হেটমায়ারের ঝড়ে কপাল পুড়ল জিম্বাবুয়ের, গড়ল রেকর্ড
- ডুসাসের নেতৃত্বে জিসান-সাবরিন
- জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল কাল, সহজে দেখবেন যেভাবে
- একই কক্ষপথে যাত্রা, এক বছর পর তিন মেরুতে তিন কোম্পানি
- মারা যাওয়ার আগে কী বার্তা দিলেন জাহের আলভীর স্ত্রী?
- জানুন জুনিয়র বৃত্তিতে মাসিক ও বার্ষিক ভাতার পরিমাণ