ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
শেয়ারবাজারে চার ভাগের এক ভাগ শেয়ারই ১০ টাকার নিচে
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারের দুর্বল চিত্র আবারও স্পষ্ট হলো এক নতুন পরিসংখ্যানে। প্রধান শেয়ারবাজর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত প্রতি চারটি কোম্পানির একটির শেয়ার এখন ফেইস ভ্যালু বা অভিহিত মূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে। এর মূল কারণ হলো কোম্পানিগুলোর দুর্বল আর্থিক অবস্থা এবং ধারাবাহিক ব্যর্থতা। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিপুল সংখ্যক নিম্ন-মূল্যের শেয়ার পুরো বাজারের আকর্ষণ কমিয়ে দিচ্ছে এবং দেশি-বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীকে নিরুৎসাহিত করছে।
ফেইস ভ্যালু হলো একটি শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্য, যা বাংলাদেশে সব শেয়ারের জন্য ১০ টাকা। ডিএসইতে রবিবার (৩১ আগস্ট) ৩৯৭টি শেয়ারের লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ৯৮টিই ১০ টাকার নিচে হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক শেয়ারের দাম ছিল ৫ টাকার নিচে।
খারাপ ঋণ ও দুর্বল কোম্পানির ভার
নিম্ন-মূল্যের এই কোম্পানিগুলোর একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যা খেলাপি ঋণের বোঝায় জর্জরিত। এর বাইরে রয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারানো মিউচুয়াল ফান্ড এবং দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা বস্ত্র খাতের ১৭টি কোম্পানি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৪.২০ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এর ফলে ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে বিনিয়োগকারীদের কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি।
বড় হচ্ছে ভালো-খারাপের ব্যবধান
বাজারের এমন পরিস্থিতিতে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এত বিপুল সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারের দাম কম থাকার অর্থ হলো তাদের পারফরম্যান্স ভালো নয়, তাই এসব শেয়ারের চাহিদা কম। এটি বাজারে ভালো স্টকের ঘাটতিকেই নির্দেশ করে। তাঁরা বলছেন, ডিএসইতে প্রায় ৪০০ কোম্পানি তালিকাভুক্ত থাকলেও বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০টি কোম্পানিই বিনিয়োগের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে বাজারে এত বেশি সংখ্যক জাঙ্ক স্টক থাকে, তা বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে কখনই আকর্ষণীয় হতে পারে না। তারা সরকারের প্রতি শক্তিশালী কোম্পানিগুলোকে বাজারে নিয়ে আসার আহ্বান জানান।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যেসব কোম্পানির পর্যাপ্ত সম্পদ আছে, সেগুলোকে একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে বাজারের এই নিম্নগতি থেকে মুক্তি পেতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, নয়তো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে পাওয়া কঠিন হবে।
এসকে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে ভাইভার সময়সূচি নিয়ে যা জানা গেল
- বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে
- মিমোর মৃ'ত্যু ঘিরে সর্বশেষ যা জানা গেল