ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
কফি: শয়তানের পানীয় থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বাণিজ্যিক পণ্য
কফি—সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে শুরু করে দিনের ক্লান্তি দূর করার এক দুর্দান্ত সঙ্গী। কিন্তু এই কফিকে ঘিরে আছে নানা রহস্য, অদ্ভুত ঘটনা এবং চমকপ্রদ ইতিহাস। আপনি কি জানেন, একসময় এই জনপ্রিয় পানীয়কে 'শয়তানের পানীয়' বলা হতো, আবার কখনো কখনো তা হয়ে উঠেছিল প্রেম বা চুরির প্রতীক। কফি নিয়ে এমন কিছু অবিশ্বাস্য তথ্য নিয়েই এই আয়োজন।
সাপের বিষ থেকে কপির জন্ম
পৃথিবীতে কফি নিয়ে উন্মাদনা কতটা তীব্র হতে পারে, তার প্রমাণ মেলে এক অদ্ভুত তথ্য থেকে। জানা যায়, কিছু সংস্কৃতিতে কফির সঙ্গে বিশেষ কৌশলে সাপের বিষ মিশিয়ে পান করা হতো। এটাকে তারা ঐতিহ্যবাহী ওষুধ মনে করত! এমন উন্মাদনার পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা হয়তো অবাক হওয়ার মতোই বিষয়।
শয়তানের পানীয় থেকে পোপের প্রিয়
ষোলো শতকে কফি যখন প্রথম ইউরোপে পৌঁছায়, তখন কিছু খ্রিস্টান ধর্মযাজক এর স্বাদ নিয়ে একে 'শয়তানের পানীয়' হিসেবে আখ্যা দেন। কিন্তু পোপ অষ্টম ক্লেমেন্ট কফির স্বাদ নেওয়ার পর তার মত পাল্টান। তিনি বলেন, "এই পানীয় এত সুস্বাদু যে শুধু অবিশ্বাসীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়!" এর পরই ইউরোপে কফির জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে।
প্রেমের ফাঁদে কফি, চুরি করে খ্যাতি
ব্রাজিল এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় কফি উৎপাদনকারী দেশ। কিন্তু এর পেছনে আছে এক প্রেমের গল্প। ১৭২৭ সালে ফ্রান্সিসকো দে মেলো পালহেতা নামের এক ভদ্রলোক ফ্রেঞ্চ গায়ানার গভর্নরের স্ত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কফির বীজ সংগ্রহ করেন। সেই বীজ থেকেই ব্রাজিলে কফি চাষের শুরু, যা এখন বিশ্বের মোট কফির প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে।
অন্যদিকে, কফি বীজ চুরির সঙ্গে জড়িত এক ভারতীয় সন্তের নাম বাবা বুদান। ১৬ শতক পর্যন্ত ইয়েমেন ছাড়া অন্য কোথাও কফি চাষ হতো না। কফি বীজ রপ্তানি তখন মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ ছিল। কিন্তু বাবা বুদান হজ থেকে ফেরার পথে ৭টি বীজ লুকিয়ে ভারতে নিয়ে আসেন। কর্ণাটকের চন্দ্রগিরি পাহাড়ে সেই বীজ রোপণ করে তিনি ভারতের কফি চাষের পথ খুলে দেন। তার সম্মানার্থে ওই পাহাড়ের নাম রাখা হয় 'বাবা বুদান গিরি'।
কফি নিয়ে আরও কিছু মজার তথ্য
১০০ বছরের পুরনো বীজেও প্রাণের স্পন্দন: ২০০৮ সালে বিজ্ঞানীরা ১৮৪০ সালের সংরক্ষিত কফি বীজ থেকে একটি চারা জন্মাতে সক্ষম হন। এটি প্রমাণ করে, কফি বীজের জীবনীশক্তি কতটা প্রবল!
পৃথিবীর দ্বিতীয় বাণিজ্যিক পণ্য: তেলের পর কফি হলো বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক বাণিজ্যিক পণ্য। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে ২ বিলিয়নের বেশি কাপ কফি পান করা হয়।
ফিনিশরা সবচেয়ে বেশি কফি পান করে: ফিনল্যান্ডের মানুষেরা বছরে মাথাপিছু প্রায় ১২ কেজি কফি পান করে। এমনকি সেখানে গর্ভকালীন ছুটির সময় কর্মজীবী নারীদের জন্য কফি ব্রেক বাধ্যতামূলক।
ডিক্যাফ কফি ক্যাফেইনমুক্ত নয়: ডিক্যাফ কফি থেকে ৯৭ শতাংশ ক্যাফেইন সরানো হলেও এটি সম্পূর্ণ ক্যাফেইনমুক্ত হয় না। সামান্য পরিমাণ ক্যাফেইন এতে থেকেই যায়।
এক সময় কফি চাষ নিষিদ্ধ ছিল ইংল্যান্ডে
১৬৭৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস কফি হাউসগুলো বন্ধের নির্দেশ দেন। তাঁর ধারণা ছিল, এসব স্থানে বসেই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, হিস্ট্রি ডটকম, বিবিসি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- ৩৯ পদে ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ সেপ্টেম্বর)
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ সালমান মুক্তাদিরের
- ৪৩ পদে নিয়োগ দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আবেদন অনলাইনে
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- তিন পদে ৩৫ জনকে নিয়োগ দেবে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়
- এইচএসসি উত্তীর্ণদের বৃত্তি দেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, জানুন বিস্তারিত
- মাসে ৩৫শ রিঙ্গিত বৃত্তিতে মালায়ায় পিএইচডির সুযোগ
- ওয়ালটনে টেরিটরি সেলস ম্যানেজার পদে নিয়োগ
- একাদশে দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে