ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে তিন মাস সময় চেয়েছে ন্যাশনাল টি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড ব্যবস্থাপনা সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং কর্মী সংকটের কারণে চলতি অর্থবছরের নয় মাসের (মার্চ পর্যন্ত) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য তিন মাসের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।
কোম্পানির কর্মকর্তাদের মতে, ন্যাশনাল টি এপ্রিলের শেষে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিল। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে এখনও কোন প্রতিউত্তর পায়নি।
তালিকাভুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ত্রৈমাসিক শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে তাদের অনিরীক্ষিত ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। এটি পালনে ব্যর্থ হলে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা হয়।
কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সীমা এপ্রিলে শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো তা প্রকাশ করতে পারেনি।
ন্যাশনাল টি-এর একজন কর্মকর্তা বলেছেন, গত বছর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা তাদের আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে কোম্পানিটি গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকার কর্তৃক নিযুক্ত বেশ কয়েকজন বোর্ড সদস্যকে অপসারণ করা হয়েছে এবং কোম্পানি কর্মীদের বেতন পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে চা বাগানগুলিতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যদিও এখন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।
বিএসইসি-কে পাঠানো চিঠিতে ন্যাশনাল টি বিলম্বের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছে-
প্রথমত, ন্যাশনাল টি জুলাই ও আগস্ট ২০২৪ এর রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেছে, যা মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে, যেমন শিল্প মন্ত্রণালয়, কৃষি ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল ঘটিয়েছে। এই বিঘ্নগুলি মজুরি বিতরণে প্রভাব ফেলেছিল, শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল এবং একাধিক চা বাগানে হিসাবরক্ষণ কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটিয়েছিল।
দ্বিতীয়ত, গত বছরের আগস্টে চারজন স্বাধীন পরিচালক এবং দুজন নির্বাচিত পরিচালকের পদত্যাগের ফলে বোর্ড এবং এর কমিটিগুলি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল, যা মূল তদারকি কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
তৃতীয়ত, কোম্পানির অর্থ ও হিসাব বিভাগ বর্তমানে মাত্র একজন সহকারী ব্যবস্থাপক এবং তিনজন অফিস সহকারী দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এই কর্মী সংকট দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং বছর শেষের আর্থিক উভয় কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
এসব বাধা সত্ত্বেও কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা সম্প্রতি তাদের বোর্ড পুনর্গঠন করেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “এটি উল্লেখ করার মতো যে কোম্পানি সম্প্রতি একটি পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ডের একজন নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং তিনি ইতিমধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দুটি শূন্য নির্বাচিত পরিচালকের পদ পূরণের জন্য দুজন নতুন পরিচালক বোর্ডে যোগদান করেছেন। সাথে তিনজন নতুন স্বাধীন পরিচালকও রয়েছেন। এছাড়াও, একজন নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং কোম্পানি সচিব কোম্পানিতে যোগদান করেছেন। আমরা আশা করছি, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) নিয়োগ প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই শুরু হবে।"
এসব উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে, ন্যাশনাল টি তালিকাভুক্তি বিধিমালা ১৭(১) এর অধীনে ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৫ এবং ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত সময়কালের অনিরীক্ষিত নয় মাসের এবং তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য তিন মাসের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছে।
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে ভাইভার সময়সূচি নিয়ে যা জানা গেল
- মিমোর মৃ'ত্যু ঘিরে সর্বশেষ যা জানা গেল
- বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে