ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান বিশিষ্ট নাগরিকদের
হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে সফল অভ্যুত্থানের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে বর্তমান সরকার অধিষ্ঠিত হলেও সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। তাদের মতে, এই সুযোগে ভারতীয় আধিপত্যবাদ আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
শনিবার (৩১ মে) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে পলিসি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সোসাইটির (পিএমআরএস) উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, নির্বাচন ও সংস্কার: আশু করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম এ ফায়েজ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক সচিব ও পিএমআরএস চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সেমিনারে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, সংস্কার, ফ্যাসিস্টদের বিচার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দলগুলোসহ সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের মধ্যে জুলাইয়ের ঐক্য ও সংহতি ধরে রাখতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. এসএম এ ফায়েজ বলেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পতন হয়েছে। জনগণ ড. ইউনূসের ওপর আস্থা রেখে অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। সেই আস্থা ধরে রাখার পাশাপাশি সরকারের ভুল-ত্রুটিও চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা সক্রিয় রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
প্রধান বক্তা ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, “আন্দোলনের সময় তরুণদের মুখগুলো আজও চোখে ভাসে। তাদের স্বপ্ন ছিল গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও একটি বাসযোগ্য সমাজ। এই সরকার সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনকে অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে—তবে এর জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর তৎপরতা রয়েছে, যা আমাদের দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করছে। এ অবস্থায় জাতীয় ঐকমত্য আরও দৃঢ় করা জরুরি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তারা ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এখন তরুণদের অবজ্ঞা না করে তাদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এমনকি বিএনপিকেও তাদের চিন্তা ও ভাষা বুঝতে হবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন পিএমআরএস-এর ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, সাংবাদিক এমএ আজিজ, সাবেক সচিব আবদুল খালেক, শিক্ষাবিদ আবদুল লতিফ মাসুম, সাবেক সচিব জাকির হোসেন কামাল, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ড. একেএম শামসুল ইসলাম এবং সেমিনার উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক এবিএম আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- শতবর্ষী ৮০৮ স্কুল-কলেজের তালিকা করল মাউশি
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- আত্মহ/ত্যার আগে যা লিখেছিলেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী
- ঢাবির ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি