ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
জালিয়াতির মাধ্যমে
১০ বিষয়ে ফেল করেও জিপিএ-৪.৯৪ পাওয়ার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রে ১০ বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও প্রকাশিত ফলাফলে এক শিক্ষার্থীকে পাস দেখানোর অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীর ১১টি পত্রের সৃজনশীল অংশের নম্বর বাড়িয়ে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি করেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন।
মামলার আসামিরা হলেন শিক্ষার্থী হাসিবুল আলী শোভন এবং শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, রাশেদুল ইসলাম ও নূর হোসেন রায়হান।
হাসিবুল আলী শোভন চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় আগ্রাবাদ সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর উত্তরপত্রে পাওয়া নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের নম্বরের ব্যাপক অসংগতি রয়েছে। ১০ বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পরও নম্বর পরিবর্তন করে চূড়ান্ত ফলাফলে তাঁকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়। প্রকাশিত ফলে তাঁর জিপিএ দেখানো হয়েছে ৪.৯৪।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাংলা প্রথম পত্রে শিক্ষার্থী পেয়েছিলেন ২৩ নম্বর। প্রকাশিত ফলে তা দেখানো হয়েছে ৩৩। বাংলা দ্বিতীয় পত্রে ২৪-এর পরিবর্তে ৬২, ইংরেজি প্রথম পত্রে ৩৩-এর পরিবর্তে ৮৩ এবং দ্বিতীয় পত্রে ২০-এর পরিবর্তে ৮২ নম্বর দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া গণিতে ৯-এর পরিবর্তে ৬৬, ইসলাম শিক্ষায় ৭-এর পরিবর্তে ৬৪, উচ্চতর গণিতে শূন্যের পরিবর্তে ৪৬, পদার্থবিজ্ঞানে শূন্যের পরিবর্তে ৪৫, জীববিজ্ঞানে ১-এর পরিবর্তে ৪৬ এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৪-এর পরিবর্তে ৬৫ নম্বর দেখানো হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সময় খাতায় পাওয়া নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের অমিল ধরা পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে শিক্ষার্থীর আরও কয়েকটি বিষয়ে একই ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়।
পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী, কলেজে ভর্তির আগেই ওই শিক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়েছে।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, শিক্ষা বোর্ডের তিন কর্মচারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
গত ১০ আগস্ট সারা দেশে একযোগে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। পরদিন ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা।
এর আগে ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ছেলের ফল পরিবর্তন করে জিপিএ-৫ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে। তাঁর ছেলে নক্ষত্র দেব নাথ ওই বছর নগরের একটি বেসরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ছেলের ফলাফল নিয়ে কয়েকজন শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন। এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নক্ষত্র দেবের ফলাফল বাতিল করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। একই ঘটনায় অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- ১৫ দিনের ব্যবধান দুইবার হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২৬ অক্টোবর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ অক্টোবর)
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন করবেন যেভাবে, জানুন বিস্তারিত
- দেশের যেসব অঞ্চলে পাঁচ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
- ‘অনেক শিশুকে চুমু দিয়েছি, আমাকে মারার সাহস আছে?’
- ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)