ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
খুঁটিতে বাঁধা বাবার মুখে রুটি তুলে দিল তুবা, বদলে গেল জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুরির অভিযোগে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অভুক্ত বাবা অনিক সিকদারের কাছে এক কাপ চা ও একটি রুটি নিয়ে হাজির হয়েছিল তাঁর ‘রাজকন্যা’ তুবা। শিশুটির সেই ভালোবাসার দৃশ্য অনিক ও তাঁর পরিবারের জীবনের গন্তব্য বদলে দিয়েছে। তুবার ছোঁয়ায় নতুন জীবন পাওয়ার পর অনিক আর কোনো অন্যায় করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা তাঁকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি শিশুটির পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও অনিককে একটি ভ্যান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একসময় অনিকদের পরিবার স্বচ্ছল ছিল। তাঁর বাবার অসুস্থতার পর সংসারের সেই চিত্র বদলে যায়। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ধীরে ধীরে সঞ্চয় ও সম্পদ শেষ হয়ে যায়। এরপর পরিবারটিতে নানা সংকটের সঙ্গে অভাবও যোগ হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, অনিক নেশায় জড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় একটি মাদকচক্র তাঁর দুর্বলতার সুযোগ নেয়।
এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে উজিরপুরের বামরাইল বাজারে চুরির চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে অনিকের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে ছোট্ট মেয়েটি বাবার কাছে ছুটে যায়। অভুক্ত বাবার জন্য সে সঙ্গে করে নিয়ে আসে এক কাপ চা ও একটি রুটি। এরপর নিজের ছোট্ট হাতে রুটি টুকরো করে বাবাকে খাওয়ায়। বাবা কী করেছেন, সেই বিচার করার বয়স তুবার হয়নি। তার কাছে শুধু এটুকুই গুরুত্বপূর্ণ ছিল—বাবা ক্ষুধার্ত এবং একা।
অনিকের স্ত্রী বলেন, অভাবের কারণে তাঁদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা চলছিল। মেয়েটি তার বাবাকে খুব ভালোবাসে। সেদিন বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে সে তাঁর পাশে দাঁড়ায় এবং নিজের হাতে খাবার খাইয়ে দেয়।
শিশুটির বাবাকে খাবার খাওয়ানোর দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পরে রোববার অনিকের বাড়িতে যান ইউএনও এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিশুটির পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে অনিক যাতে কাজ করে সংসার চালাতে পারেন, সে জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউএনও বলেন, শিশুটির ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে। অনিককেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনিকের কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিয়ে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) ফাউন্ডেশনও এগিয়ে এসেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাঁকে একটি ভ্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে আয় করে তিনি পরিবার চালাতে পারবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পুলিশ সদস্য এসএম আকবর বলেন, অনিকের প্রয়োজনের সময়ে যতটুকু সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রয়োজন, আমাদের সংগঠন সামর্থ্য অনুযায়ী তা অব্যাহত রাখবে। অনিক সিকদার বলেন, তাঁর ভুল হয়ে থাকলে তিনি আর কোনো অন্যায় করবেন না। কাজ করে পরিবারকে ভালোভাবে চালাতে চান তিনি। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সবার সহযোগিতা চান।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: Live দেখুন এখানে
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন জেমস
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগপত্র, যোগদান ও পদায়নের সূচি প্রকাশ
- কোন রুটে কত বাড়ল বাসের ভাড়া
- নবম-পে স্কেলে অনলাইনে হবে বেতন নির্ধারণ
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- অপ্রতিম হ/ত্যায় সামনে এল রহস্যময় তথ্য
- বাস ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি