ঢাকা, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

শিশু আছিয়া হ'ত্যা ও ধর্ষণ মামলায় হিটু শেখের মৃ'ত্যুদণ্ড বহাল

২০২৬ আগস্ট ৩১ ১২:৪৯:৩২

শিশু আছিয়া হ'ত্যা ও ধর্ষণ মামলায় হিটু শেখের মৃ'ত্যুদণ্ড বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাগুরার আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে আজ সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আলোচিত এ মামলায় মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ১৭ মে রায় দিয়েছিলেন। ওই রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখের (৪৭) মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ে বাকি তিন আসামি খালাস পান। তারা হলেন নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, তাঁর ভাই রাতুল শেখ এবং তাঁদের মা জাহেদা বেগম।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামি হিটু শেখও আপিল করেন।

হাইকোর্টে আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

আছিয়ার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুরে। গত বছরের মার্চের শুরুতে সে মাগুরা শহরে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানেই ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি।

ওই বছরের ৬ মার্চ তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরা আড়াইশ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান তার বোনের শাশুড়ি। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সবশেষে ঢাকা সিএমএইচে নেওয়া হয় শিশুটিকে। সেখানে ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

দুদিন পর ৮ মার্চ আছিয়ার মা চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। বিচারের দাবিতে সারা দেশে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে।

এক মাসের মধ্যেই গত বছরের ১৩ এপ্রিল মাগুরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ২৩ এপ্রিল বিচার শুরু হয়। দুমাস পর ১৭ মে রায় দেন মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।

গত বছরের ২১ মে এ মামলার নথি উচ্চ আদালতে আসে। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুতের পর ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি ওঠে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত