ঢাকা, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুম-খুন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সরকারের দায়িত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার।
আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।
‘সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সাথে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব’, ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আবেগময় কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি তাঁদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যাঁদের আজ তাঁদের মাঝে থাকার কথা ছিল, তাঁদের অনেকেই এখন নেই। তাঁদের মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।
‘আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত তারা কোথায় কি অবস্থায় আছে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত হবে দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্যে দোয়া করা যাতে আল্লাহ সে মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন’, শহীদদের আত্মার প্রতি প্রার্থনা করেন তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল—এই সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
‘হয়তো বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সবকিছু সম্ভব হয় না, কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব’, যোগ করেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবে বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের অনেকেই আজ তাঁদের মাঝে নেই। যারা আছেন, তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরা এ দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে, তাঁরা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে।
সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সরকারের কাজের মূল প্রেরণা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি বলব, আপনাদের এই ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।’
অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ প্রেস-সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা ও শাহাদাৎ স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- BANZI নির্বাচন: জয়-পরাজয়ের বাইরে কমিউনিটির আমানত ও প্রত্যাশা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ আগস্ট) r
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের ডিসিইউতে স্থানান্তরের রোডম্যাপ প্রকাশ
- তেজগাঁও কলেজে মঞ্চে উঠছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’
- ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দাবি
- স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- জামায়াতের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন, প্রধানমন্ত্রী ডা. শফিকুর রহমান
- মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ
- রোববার ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে দুই পদে চাকরির সুযোগ
- ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার তারিখ জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- বাসায় ঢুকে মডেলকে কুপিয়ে হ'ত্যা
- টাকার বিনিময়ে ১২০০ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন
- আজকের নামাজের সময়সূচি