ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
কলেরা প্রতিরোধে ৫১ লাখ মানুষকে টিকা দেবে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ম্যালেরিয়া ও এইচআইভি-এইডসের মতো রোগের নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। একই সঙ্গে কলেরা প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে মুখে খাওয়ার টিকা দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন মিলনায়তনে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন (পিসিভি) ক্যাম্পেইন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। আগামী শনিবার থেকে নির্ধারিত এলাকায় কলেরার টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হবে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে। সারাদেশের ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।
কর্মসূচিতে ১ বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে। তবে গর্ভবতী নারীরা এ কর্মসূচির আওতায় থাকবেন না। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কলেরা প্রতিরোধে টিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই একমাত্র সমাধান নয়। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন ও রোগ নজরদারির পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিতে হবে। অসচেতনতা ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে মানুষ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকিতে পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিষয় বিবেচনায় নিয়ে টার্গেটেড ও প্রমাণভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রোগের প্রাদুর্ভাবের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, টিকাদান কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহারও করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ভিএএক্সইপিআই (VaxEPI) প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে ই-হেলথ কার্ড পাবেন। এতে টিকার তথ্য সংরক্ষণ, টিকাদানের আওতা পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী মূল্যায়ন সহজ হবে।
এ কর্মসূচির আওতায় ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচরের ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্দিষ্ট এলাকাতেও কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবুস সালাম, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান এবং আইসিডিডিআর,বির ড. ফিরদৌসী কাদরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের লক্ষ্য হলো টিকাদানের পাশাপাশি সচেতনতা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও রোগ নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে কলেরাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- ১১-২০ গ্রেডের চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ছে
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ৬১৮ প্রভাষকের চাকরি স্থায়ীকরণ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ সেপ্টেম্বর)
- নারী এশিয়া কাপ সেমিফাইনাল: কবে, কখন কোন দলের ম্যাচ
- বুটেক্সে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৮ সেপ্টেম্বর)
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে মাহমুদা মিতু
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- ফের ব্যালন ডি’অরের তালিকায় মেসি