ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন আনছে মোদি সরকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণার একদিন পর সরকার পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪-এ সংশোধন আনার প্রস্তুতি নিয়েছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন পেতে পারে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন। এসব আদালতকে তিন মাসের মধ্যে মামলার বিচার শেষ করে রায় দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, প্রশ্নফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে তিনি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন সংশোধনীতে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও আর্থিক জরিমানার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, দোষী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।
বর্তমান আইনে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলে তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ রুপি জরিমানার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া সম্ভাব্য অপরাধের তথ্য গোপন করলে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১ কোটি রুপি জরিমানার বিধান রয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে বর্তমানে পাঁচ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ১ কোটি রুপি জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে।
মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে আগামী সোমবার লোকসভায় সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হতে পারে।
এর আগে বুধবার লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, গত ১০ বছরে দেশে প্রায় ১৫০টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও একটিতেও দোষীদের সাজা হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাই গত আড়াই মাসে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।’
তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং অন্তত ২২ লাখ শিক্ষার্থীর একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হওয়ার জন্য দ্রুত পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে।
মোদি আরও বলেন, ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ তিনি ইতোমধ্যে দিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় আলোচনা শেষে বিলটি চূড়ান্ত করা হবে এবং সংসদের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হলে যত দ্রুত সম্ভব তা পাসের চেষ্টা করা হবে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পরও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ফের বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল
- ঢাবিতে গ্রিন নেক্সাস কর্মসূচি সমাপ্ত
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ