ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফিফা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ চায় স্পেন

২০২৬ জুলাই ২২ ১২:২৯:২৫

ফিফা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ চায় স্পেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার সম্ভাব্য পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন লা লিগার সভাপতি হ্যাভিয়ের তেবাস। একই সঙ্গে তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করে বলেছেন, বর্তমান নেতৃত্বের সময় শেষ হয়ে এসেছে।

বিশ্বকাপের পরিধি আরও বাড়ানোর আলোচনা নিয়ে আবারও সমালোচনায় মুখর হয়েছেন স্পেনের শীর্ষ ফুটবল প্রশাসক ও লা লিগার সভাপতি হ্যাভিয়ের তেবাস। ইতালির ক্রীড়া দৈনিক লাগ্যাজেত্তাদেলোস্পোর্ত-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্বকাপে ৬৪টি দল অন্তর্ভুক্ত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত বিশ্ব ফুটবলের পাশাপাশি পুরো ফুটবল শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৬৩ বছর বয়সী তেবাসের ভাষায়, বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর হলেও পুরো ফুটবল ব্যবস্থাকে শুধু এই একটি টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে পরিচালনা করা উচিত নয়। তিনি মনে করেন, জাতীয় লিগগুলোর ওপরই ফুটবল কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে এবং সেগুলোর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

তেবাস অভিযোগ করেন, মাত্র ৪০ দিনের একটি টুর্নামেন্টের জন্য বারবার ফুটবল সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় লিগ ও এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লাখো মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তার মতে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় পুরো ফুটবল ক্যালেন্ডারকে এভাবে পরিবর্তন করা সমর্থনযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় লিগগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নয়।

২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ১৯৯৮ সাল থেকে টুর্নামেন্টটিতে অংশ নিত ৩২টি দল। ইতোমধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপে দলসংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ওই আসরের আয়োজক।

এই পরিকল্পনাকে ‘বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে তেবাস বলেন, ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়েই এমন সিদ্ধান্তের চিন্তা করা হচ্ছে।

ফিফা কংগ্রেসে আগামী মার্চে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তেবাস মনে করেন, এখনই তার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, বিভিন্ন জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থন থাকায় ইনফান্তিনোর অবস্থান বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কার্যকর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীও নেই।

ফিফার নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তেবাস। তার দাবি, সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগেই পরাজয়ের আশঙ্কায় নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হন না। তার ভাষায়, পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাটিই সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ থেকে অনেক দূরে।

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন ফুটবল কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকে ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর সমালোচনা করলেও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনাও সমালোচনা করেন তেবাস। তার দাবি, ওই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব ছিল। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি শেষ ষোলো থেকে বিদায় না নিত, তাহলে বিষয়টি আরও বড় বিতর্কে রূপ নিতে পারত।

বিশ্বকাপে দীর্ঘ বিরতি ও বাধ্যতামূলক ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়েও আপত্তি জানান তেবাস। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনের চেয়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যই এসব বিরতির পেছনে বেশি কাজ করেছে। লা লিগায় কেবল অতিরিক্ত গরমের সময় এমন বিরতি দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামেও একই ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বকাপ সম্প্রসারণ, টুর্নামেন্ট পরিচালনা ও ফিফার বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত