ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
আরও ৭৭ জন বঞ্চিত প্রার্থীকে ২৭তম বিসিএসে নিয়োগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আরও ৭৭ জন বঞ্চিত প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
রোববার (৫ জুলাই) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এর আগে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২৭তম বিসিএসের ৬৭৩ জন চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে চলতি বছরের ১৩ মে আরও ৯৬ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সর্বশেষ জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। ওই তারিখের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে অন্য কোনো নির্দেশনা না পেলে ১৪ জুলাইকেই যোগদানের তারিখ হিসেবে গণ্য হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাকরিতে যোগদানে অনিচ্ছুক বলে বিবেচিত হবেন এবং তার নিয়োগপত্র বাতিল হয়ে যাবে।
এতে আরও বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ণ রাখতে তাদের ব্যাচের প্রথম নিয়োগপ্রাপ্তদের যে তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল, সেই তারিখ থেকেই ভূতাপেক্ষিকভাবে নিয়োগ কার্যকর হবে। একইভাবে ব্যাচের প্রথম নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানের তারিখ থেকে তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা বহাল থাকবে। তবে এ কারণে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না।
২৭তম বিসিএস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতা চলছিল। ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। পরে ওই বছরের ৩০ জুন জরুরি অবস্থার সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন সেনাসমর্থিত সরকার প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে।
ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট সরকারের সিদ্ধান্তকে বৈধ ঘোষণা করেন। পরে রিটকারীরা আপিল বিভাগের অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল করেন।
এদিকে ২০০৭ সালের ২৯ জুলাই দ্বিতীয় দফায় মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফল অনুযায়ী দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ২২৯ জন উত্তীর্ণ হন এবং পরে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরে প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা এ বিষয়ে হাইকোর্টে তিনটি পৃথক রিট আবেদন করেন। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করেন।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ তিনটি লিভ টু আপিল দাখিল করে, যা কিছু পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
পরবর্তীতে বাতিল হওয়া প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। গত বছরের ৭ নভেম্বর আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদন গ্রহণ করে শুনানির নির্দেশ দেন। পরে গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে ২০ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে ২৭তম বিসিএসে নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে ২৭তম বিসিএসে বঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনকে দ্রুত নিয়োগ দিতে সরকারকে নির্দেশ দেন এবং সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- BANZI নির্বাচন: জয়-পরাজয়ের বাইরে কমিউনিটির আমানত ও প্রত্যাশা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ আগস্ট) r
- ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের ডিসিইউতে স্থানান্তরের রোডম্যাপ প্রকাশ
- প্রজ্ঞাপনের আগে পে স্কেলের বেতন তালিকা
- তেজগাঁও কলেজে মঞ্চে উঠছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’
- জামায়াতের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন, প্রধানমন্ত্রী ডা. শফিকুর রহমান
- ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দাবি
- মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ
- আজকের নামাজের সময়সূচি
- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে দুই পদে চাকরির সুযোগ
- ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার তারিখ জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- বাসায় ঢুকে মডেলকে কুপিয়ে হ'ত্যা
- টাকার বিনিময়ে ১২০০ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন
- জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাবির কর্মসূচি
- বোর্ড সচিব বাবা, টেনেটুনে পাস করা ছেলের ফল জিপিএ-৫