ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ শোধের সময়সীমা কত, জানুন বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে। এই বৃহৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে, তেমনি এর ব্যয় ও অর্থায়ন নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ রাশিয়া ঋণ হিসেবে প্রদান করছে। চুক্তি অনুযায়ী, এই ঋণ আগামী ২৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সব ধরনের সহযোগিতাও দিচ্ছে রাশিয়া। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৬ টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১২ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এখানে ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তিতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী রাশিয়ায় ফেরত পাঠানোর বিধান রয়েছে। প্রায় ৬০ বছর মেয়াদি এই কেন্দ্র সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত চালানো সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্প কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নয়, বরং দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল জ্বালানি ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয়। ইউরেনিয়াম অক্সাইড দিয়ে ছোট ট্যাবলেট আকৃতির জ্বালানি পেলেট তৈরি করা হয়, যার ব্যাস সাধারণত ৮ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার। এসব পেলেট প্রায় চার মিটার দীর্ঘ ধাতব নলের ভেতরে সাজিয়ে তৈরি করা হয় জ্বালানি রড। এরপর নির্দিষ্ট কাঠামোয় একাধিক রড একত্র করে তৈরি করা হয় ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বা জ্বালানি বান্ডেল।
২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে আকাশপথে প্রথম পারমাণবিক জ্বালানির চালান ঢাকায় আসে। পরে আরও কয়েকটি চালান এসে বিশেষ নিরাপত্তায় সড়কপথে অক্টোবর মাসে রূপপুরে পৌঁছানো হয়। মোট ১৬৪টি জ্বালানি বান্ডেল দেশে আনা হয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছে ৩১২টি করে জ্বালানি রড।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এসব জ্বালানি বান্ডেল চুল্লির কেন্দ্রে স্থাপন করা হচ্ছে। প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি বান্ডেল ব্যবহার করা হবে। একবার জ্বালানি স্থাপন করলে প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে, ফলে এই সময় জ্বালানি আমদানিতে কোনো সমস্যা হবে না। এরপর বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগে ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে। তবে দুই বছর পরপর জ্বালানি পরিবর্তন করলেই কেন্দ্রটি নিয়মিতভাবে সচল রাখা সম্ভব হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: Live দেখুন এখানে
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ডিসেম্বরে দেশে ফেরা নিয়ে নতুন ঘোষণা হাসিনার
- মাসিক ১,৪০০ ইউরো স্টাইপেন্ডসহ ইউরোপে মাস্টার্সের সুযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৬ সেপ্টেম্বর)