ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

সংস্কার থেকে সরে গেলে অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি দিলেন হাসনাত

২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৬:০৭:১৩

সংস্কার থেকে সরে গেলে অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি দিলেন হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে রাজনৈতিক সংস্কার, রাষ্ট্র কাঠামো এবং মানবাধিকার ইস্যুতে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংস্কার কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে ২০২৪ সালের মতো আরেকটি অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে মত দেন। পাশাপাশি রাষ্ট্র কাঠামোর টেকসই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য নয়, রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কারের লক্ষ্যেই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল। আগের সিস্টেম অপরিবর্তিত থাকলে ভবিষ্যতে যে কেউই একই ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহারের দিকে যেতে পারে। হাসিনা কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং এটি একগুচ্ছ ফ্যাসিবাদী ধারণার প্রতিফলন।’

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিডিবিএল ভবনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও গুম প্রতিরোধ/প্রতিকার অধ্যাদেশ স্থগিত: সুশাসন ও মানবাধিকারের অগ্রযাত্রার প্রতি হুমকি’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ভয়েস ফর রিফর্ম।

রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন না হলে দেশ আবারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণ এমন একটি রাষ্ট্র প্রত্যাশা করে, যেখানে কাউকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নিখোঁজ করা হবে না।

মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি সমালোচনা করে বলেন, কমিশন যদি মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকে, তবে তার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অধ্যাদেশ কার্যকর না হলে ২০০৯ সালের আইনের আওতায় তদন্তের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যাবে, যার ফলে নিরপেক্ষ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যোক্তা ও সংগঠক ফাহিম মাশরুর। এতে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মানজুর–আল–মতিন বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দ্রুত পাস হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী আইনটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে রয়েছে। তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনায় আরও অংশ নেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানসহ অনেকে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত