ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সংস্কার থেকে সরে গেলে অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি দিলেন হাসনাত
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে রাজনৈতিক সংস্কার, রাষ্ট্র কাঠামো এবং মানবাধিকার ইস্যুতে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংস্কার কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে ২০২৪ সালের মতো আরেকটি অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে মত দেন। পাশাপাশি রাষ্ট্র কাঠামোর টেকসই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য নয়, রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কারের লক্ষ্যেই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল। আগের সিস্টেম অপরিবর্তিত থাকলে ভবিষ্যতে যে কেউই একই ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহারের দিকে যেতে পারে। হাসিনা কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং এটি একগুচ্ছ ফ্যাসিবাদী ধারণার প্রতিফলন।’
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিডিবিএল ভবনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও গুম প্রতিরোধ/প্রতিকার অধ্যাদেশ স্থগিত: সুশাসন ও মানবাধিকারের অগ্রযাত্রার প্রতি হুমকি’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ভয়েস ফর রিফর্ম।
রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন না হলে দেশ আবারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণ এমন একটি রাষ্ট্র প্রত্যাশা করে, যেখানে কাউকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নিখোঁজ করা হবে না।
মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি সমালোচনা করে বলেন, কমিশন যদি মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকে, তবে তার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অধ্যাদেশ কার্যকর না হলে ২০০৯ সালের আইনের আওতায় তদন্তের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যাবে, যার ফলে নিরপেক্ষ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যোক্তা ও সংগঠক ফাহিম মাশরুর। এতে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মানজুর–আল–মতিন বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দ্রুত পাস হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী আইনটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে রয়েছে। তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনায় আরও অংশ নেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানসহ অনেকে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
- বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১১ নভেম্বর পর্যন্ত
- শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান