ঢাকা, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন, দেশেও দাম কমার জোরালো সম্ভাবনা

২০২৬ মার্চ ১৮ ২২:৪৫:১৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন, দেশেও দাম কমার জোরালো সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিনিয়োগকারীরা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর মুদ্রানীতি এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে স্বর্ণের ওপর থেকে বিনিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছেন। এর সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে গত কয়েক দিনের তুলনায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৮ মার্চ) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ২৭ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৪ হাজার ৮৮৮ দশমিক ৮৪ মার্কিন ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। তেলের এই উচ্চমূল্য পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ এতে স্বর্ণ ধরে রাখার ব্যয় (Opportunity Cost) বেড়ে যায়।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও ডলার ও বন্ডের দিকে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বাড়ায় স্বর্ণের বাজারে এই দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় প্রবণতা বাড়লে দাম আবারও বাড়তে পারে।

বিশ্ববাজারে বড় ধরনের দরপতনের ফলে বাংলাদেশের বাজারেও ঈদের আগে আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে স্থানীয় দাম নির্ধারণ করে। গত তিনটি সমন্বয়ে বাজুস তিনবারই স্বর্ণের দাম কমিয়েছে, যেখানে ভরিতে মোট ৮ হাজার ১৬৫ টাকা কমানো হয়েছে।

সবশেষ নির্ধারিত দাম অনুযায়ী বর্তমানে দেশের বাজারে স্বর্ণের বাজারদর:

২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা (প্রতি ভরি)।

২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা।

১৮ ক্যারেট: ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা।

সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।

স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও ২ শতাংশের বেশি কমেছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের ভোক্তাদের জন্য নতুন সুখবর দিতে পারে বাজুস।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত