ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

গণতন্ত্র থেকে সরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, সতর্ক করল এইচআরডাব্লিউ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৩:১২:৪২

গণতন্ত্র থেকে সরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, সতর্ক করল এইচআরডাব্লিউ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য দীর্ঘদিনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র এখন কর্তৃত্ববাদের ঝুঁকিতে পড়ছে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)। সংস্থাটির দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বৈরতান্ত্রিক পথে এগোচ্ছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি বুধবার প্রকাশিত তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি আরও দ্রুত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া ও চীনের প্রভাবের কারণে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আগেই চাপের মুখে ছিল, আর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান সেই সংকটকে আরও গভীর করছে।

এইচআরডাব্লিউর প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম-নির্ভর বিশ্বব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের মান গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিচের স্তরে নেমে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন মানবাধিকারের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা দেখিয়েছে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) সশস্ত্র ও মুখোশধারী সদস্যদের মাধ্যমে পরিচালিত শত শত সহিংস অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আগে কল্পনাও করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্ণ ও জাতিগত বিভাজন উসকে দেওয়া, নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার করে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ এবং ক্ষমতার ভারসাম্য ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা—এসব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে কর্তৃত্ববাদের দিকে ঝুঁকছে।

এইচআরডাব্লিউ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে বলপূর্বক গুমের গুরুতর অভিযোগও এনেছে। প্রতিবেদনে ২৫২ জন ভেনেজুয়েলার অভিবাসীকে এল সালভাদরের কারাগারে পাঠানোর ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। সংস্থাটির দাবি, সেখানে ওই অভিবাসীরা মারধর ও যৌন সহিংসতাসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পরে তাদের ভেনেজুয়েলায় ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের সূচক এখন ১৯৮৫ সালের পর্যায়ে নেমে এসেছে—যে সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব ছিল প্রবল। এইচআরডাব্লিউর মতে, রাশিয়া ও চীনের নাগরিকরা ২০ বছর আগের তুলনায় এখন কম স্বাধীনতা ভোগ করছেন, আর যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের প্রবণতার মধ্যে পড়েছে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বোলোপিওন মানবাধিকার ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে জোট গড়ে তুলে ট্রাম্পের মতো নীতিনির্ধারকদের মোকাবিলা করা প্রয়োজন।

৫২৯ পৃষ্ঠার এইচআরডাব্লিউ প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক মানবাধিকার প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের মিত্র দেশগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো অনেকাংশে উপেক্ষা করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালে এল সালভাদরে বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি এবং অপরাধের হার ঐতিহাসিকভাবে কমেছে।

তবে এইচআরডাব্লিউ বলছে, গ্যাং সহিংসতা কমলেও ২০২৫ সালে এল সালভাদরে গণগ্রেপ্তার, গুম ও নির্যাতনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন বেড়েছে।

প্রতিবেদনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ পুনরুল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হত্যা, অনাহার ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মাধ্যমে সহিংসতা আরও বাড়িয়েছে। যদিও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন