ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

প্রাথমিকে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৬:৩১:৩৪

প্রাথমিকে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। সংশোধিত মূল্যায়ন নির্দেশিকা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ২৬ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে যেসব বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকা উভয়ের মাধ্যমে পাঠদান করা হয়, সেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষা ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যেসব বিষয়ে কেবল শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান পরিচালিত হয়, সেসব বিষয়ে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যকর থাকবে এবং কোনো সামষ্টিক পরীক্ষা নেওয়া হবে না।

তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্ষেত্রেও মূল্যায়ন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই শ্রেণিগুলোতে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পরিচালিত বিষয়গুলোর জন্য ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যেসব বিষয়ে শুধু শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান করা হয়, সেসব বিষয়ে ১০০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নই বহাল থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রান্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করবে। কোনো বিদ্যালয়ের পক্ষে এককভাবে প্রশ্নপত্র তৈরি করা সম্ভব না হলে পার্শ্ববর্তী একাধিক বিদ্যালয় যৌথভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রতি প্রান্তিকের সামষ্টিক মূল্যায়নে পাঠ্যপুস্তকের অনুশীলনী থেকে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, তিন বছর পর প্রাথমিকের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে আবারও পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরছে। জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পর ২০২৩ সাল থেকে এ দুই শ্রেণিতে কোনো সামষ্টিক পরীক্ষা না নিয়ে শুধু ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি যাচাই করা হচ্ছিল।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন শাখার ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মো. সাফায়েত আলম জানান, গত ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এনসিসিসির সভায় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবির শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও অ্যাসেসমেন্ট শাখার ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মাফরুহা নাজনীন বলেন, নতুন এই মূল্যায়ন ব্যবস্থা চলতি বছর থেকেই কার্যকর হবে। সভার কার্যবিবরণী হাতে পাওয়ার পর এনসিটিবি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রণয়ন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাবে। তবে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না; আগের মতোই এই স্তরে কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন কার্যক্রম থাকবে না।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন