ঢাকা, শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২
আগামী সরকারের জন্য ৭ দফা পরিবেশ অ্যাজেন্ডা দিলেন রিজওয়ানা
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীনতার ৫৪ বছরে তৈরি হওয়া পরিবেশগত সংকট, দূষণ ও প্রশাসনিক অসংগঠনের সমস্যাগুলো স্বল্পমেয়াদে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। এই কথা উল্লেখ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যা ভিত্তি তৈরি করছে, তা বাস্তবায়নের ধারাবাহিক দায়িত্ব আগামী নির্বাচিত সরকারের ওপর থাকবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজিত নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, দীর্ঘদিনের পরিবেশগত সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। চীনও যে সংকট ১০ বছরে ঠিক করতে পারে না, বাংলাদেশে তা দেড় বছরে সমাধান আশা করা যুক্তিসঙ্গত নয়। তবে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই; এখন সবচেয়ে জরুরি হলো বাস্তবভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
তিনি নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ভালো কিছু প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নেই। গত চারটি নির্বাচনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বর্তমান সরকারের অর্জন তুলে ধরে রিজওয়ানা হাসান জানান, প্রথমবারের মতো যানবাহন স্ক্র্যাপিংয়ের পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। দূষণ কমাতে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস আমদানির প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০ হাজার একর বনভূমি এবং কক্সবাজার প্রশাসনের ট্রেনিং সেন্টারের জন্য ৭০০ একর বনভূমি পুনঃউদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি সাভারকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা এবং অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। বুড়িগঙ্গা নদীর নিচে ৫–৭ মিটার পলিথিন স্তরের কথা তুলে ধরে বলেন, পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়তে সরকারের পাশাপাশি জনগণের আচরণ পরিবর্তনও জরুরি।
ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতি সতর্ক বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে সহযোগিতা থাকবে, কিন্তু পরিবেশবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যা ভিত্তি তৈরি করছে, আগামী সরকার তা আরও শক্তিশালী করবে এবং পরিবেশকে রাষ্ট্রের মূল নীতিগত অ্যাজেন্ডার অংশ হিসেবে গড়ে তুলবে।
উপদেষ্টা এরপর আগামী সরকারের জন্য সাত দফা পরিবেশ অ্যাজেন্ডা তুলে ধরেন:
১. বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ: ব্লক ব্যবহার বৃদ্ধি, যানবাহনের জ্বালানি মান ইউরো-৪ থেকে ইউরো-৬ এ উন্নীত।
২. শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ: জরিমানা ক্ষমতা দিয়ে হর্ন ব্যবহারের সংস্কৃতি পরিবর্তন।
৩. বন পুনরুদ্ধার: দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার, প্রাকৃতিক বন অন্য কাজে ব্যবহার বন্ধ।
৪. বন্যপ্রাণী কল্যাণ: বন্যপ্রাণী ও বননির্ভর জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা।
৫. শিল্প দূষণ রোধ: অনলাইন মনিটরিং, সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ।
৬. আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা: তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজসহ বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা।
৭. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বিভাগীয় শহরে উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে সার উৎপাদন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিপিএল কোয়ালিফায়ার ১: চট্টগ্রাম বনাম রাজশাহী-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- বিপিএল ২০২৬ ফাইনাল: রাজশাহী বনাম চট্টগ্রাম-খেলাটি সরাসরি দেখুন
- রাজশাহী বনাম চট্টগ্রাম: ৯০ রানে নেই ৭ উইকেট-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- ঢাবিতে পার্সিয়ান ডিবেটিং ক্লাবের উদ্যোগে ‘ফিউশন ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, তালিকা দেখুন এখানে
- চরম নাটকীয়তা চট্টগ্রাম বনাম রাজশাহীর খেলা শেষ-দেখুন ফলাফল
- শেয়ারবাজার আধুনিকীকরণে বিএসইসির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
- ঢাবি 'বি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, যেভাবে দেখবেন
- অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেশেয়ারবাজার
- রংপুর রাইডার্স বনাম সিলেট টাইটান্সের জমজমাট খেলাটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ইপিএস প্রকাশ করবে ১৮ কোম্পানি
- সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শীতবস্ত্র বিতরণ
- স্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিতে লেনদেন, ডিএসইতে সূচকের শক্ত অবস্থান
- ইপিএস-ডিভিডেন্ড প্রকাশ করবে ১৮ কোম্পানি
- পবিত্র শবেবরাতের তারিখ জানা যাবে আগামীকাল