ঢাকা, শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভিসা ও নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক

২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ২১:০৯:০৫

মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভিসা ও নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক: মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভিসা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশের হাইকমিশনের মধ্যে। এই আলোচনায় প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষা ও হয়রানি রোধে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অংশ নেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম এবং মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের কন্ট্রোলার জেনারেল সিপি (অব.) আহমেদ ফাসীহ। বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে মালের বাংলাদেশ হাইকমিশন।

বৈঠকে মালদ্বীপে বসবাসরত ও কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকার, মর্যাদা এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে চলমান ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দুই পক্ষই প্রবাসীদের সুরক্ষায় পারস্পরিক সমন্বয় আরও কার্যকর করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

এ সময় মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের কন্ট্রোলার জেনারেল ই-ভিসা ব্যবস্থা ও ইমিগ্রেশন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালুসহ সাম্প্রতিক সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে হাইকমিশনারকে অবহিত করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নতুন ই-ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে ভিসার অবস্থা যাচাই করা যাবে এবং অদূর ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসা ইস্যুর পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমানে বৈধ ভিসাধারীদের নির্ধারিত ফি পরিশোধ সাপেক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসায় রূপান্তর করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। হাইকমিশনার বলেন, অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালদ্বীপে প্রবেশ করলেও প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান না পাওয়ায় নানা জটিলতার মুখে পড়েন, যা তাদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়।

তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের শোষণ ও প্রতারণা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন এবং তথাকথিত ‘ফ্রি-ভিসা’ প্রথা বন্ধে সমন্বিত সচেতনতা ও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

এ ছাড়া ডলার সংকট নিরসনে নিরাপদ ও কার্যকর ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন, সহজলভ্য চিকিৎসা সেবা এবং প্রতারণায় জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রাপ্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্য কন্ট্রোলার জেনারেলের সঙ্গে শেয়ার করা হয়।

জবাবে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের কন্ট্রোলার জেনারেল জানান, যাচাই সাপেক্ষে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের শ্রম সম্পর্ক কর্তৃপক্ষ (এলআরএ)-এ অভিযোগ দাখিলের জন্য উৎসাহিত করা হবে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, নতুন পাসপোর্টে কোনো তথ্য পরিবর্তিত হলে সরকারি নথির জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফিকেশন লেটার প্রয়োজন হবে। এছাড়া গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিতভাবে জানানো হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। সাধারণত বহিষ্কার প্রক্রিয়া শেষ হতে গড়ে তিন সপ্তাহ সময় লাগে।

বৈঠক শেষে হাইকমিশনার বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের গৃহীত উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত