ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
খালেদা জিয়ার চরিত্রের মূল ভিত্তি ছিল গভীর দেশপ্রেম: আসিফ নজরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন, আদর্শ ও ব্যক্তিত্বকে গভীরভাবে অনুধাবন করা জরুরি এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন অসাধারণ কিছু গুণের সমষ্টি সততা, দৃঢ়তা, আত্মত্যাগ ও গভীর দেশপ্রেম ছিল তার চরিত্রের মূল ভিত্তি। তার আচরণ ও ব্যক্তিত্বে রুচিবোধের এক অনন্য প্রকাশ দেখা যেত, একই সঙ্গে তিনি ছিলেন পরমতসহিষ্ণু একজন নেতা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালে এবং বন্দিদশায় থাকার সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার পক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলার মতো মানুষ খুব কমই পাওয়া যেত। তিনি স্মরণ করেন, যখন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো জরুরি হয়ে ওঠে, তখন বহু জায়গায় অনুরোধ জানানো হয়েছিল। অনেকের ইচ্ছা থাকলেও সাহসের অভাবে তারা এগিয়ে আসেননি।
আইন উপদেষ্টা বলেন, আজ মানুষ নির্বিঘ্নে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারছে এটি তার কাছে এক ধরনের স্বস্তির বিষয়। তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে হাজার শোকর এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, কারণ এখন বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ঘৃণা যেমন প্রকাশ করতে পারছে, তেমনি স্বাধীনভাবে ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে। এই বাস্তবতার কারণেই একজন নেত্রী মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, আর আরেকজনকে ইতিহাস বিতাড়িত ভূমিতে ঠাঁই দিয়েছে।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হওয়া বিচার প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, ওই বিচার ছিল অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য রকমের উদ্ভট। তিনি বলেন, বিচার চলাকালে অন্য পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে খালেদা জিয়া নিজেই বিস্মিত ও ব্যথিত হয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন ‘আমি কি এতিমের টাকা মেরে খেয়েছি?’ কিন্তু সেই বিস্ময় ও কষ্টকেই রায়ে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন সেটিই অপরাধ স্বীকারের প্রমাণ।
আইনের ছাত্র হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি ছিল অত্যন্ত জঘন্য একটি বিচার। ওই বিচারের প্রতিবাদে বিবৃতি দেওয়ার জন্য তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, অসংখ্য মানুষকে ফোন করেছেন। কিন্তু হাইকোর্টে কী করা যাবে বা কী করা যাবে না এই ভয়েই চারজনের বেশি মানুষ রাজি হননি। ফলে সংবাদপত্রে বিবৃতি প্রকাশ করাও সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এই নাগরিক শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন।
শোকসভায় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। শোক ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিত্বের নানা দিক তুলে ধরেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- ঢাবি ক্যাম্পাসে ববি হাজ্জাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষক, বললেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়
- বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ দেশবাসীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের ঈদের শুভেচ্ছা
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ববি হাজ্জাজের
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঈদের চামড়া বিক্রিতে হতাশ বিক্রেতারা