ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২

হাওর-জলাভূমি ধ্বংসে কঠোর শাস্তি, জারি হলো নতুন অধ্যাদেশ

২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১২:২২:৫০

হাওর-জলাভূমি ধ্বংসে কঠোর শাস্তি, জারি হলো নতুন অধ্যাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাওর ও জলাভূমি দখল, ভরাট, পরিবেশ ধ্বংস এবং অবৈধভাবে মাছ শিকার ঠেকাতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। নতুন এই অধ্যাদেশে অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।

এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি অধিদপ্তরের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কার্যপরিধি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এর আগে কোনো আইনে উল্লেখ ছিল না।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সারা দেশের হাওর ও জলাভূমির একটি সরকারি তালিকা প্রণয়ন করা হবে। জেলা প্রশাসকদের সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তালিকাটি প্রকাশ করবে এবং প্রয়োজনে সময় সময় তা সংশোধন ও হালনাগাদ করা হবে।

হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা, সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে অধিদপ্তর একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে এবং নিয়মিত তা হালনাগাদ রাখবে। এই মহাপরিকল্পনা সরকারের বিদ্যমান নীতি, পরিকল্পনা ও কৌশলপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনে সরকার কোনো হাওর বা জলাভূমিকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংস্থা ও অংশীজনদের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

হাওর বা জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মতামত নিতে হবে। নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী এই মতামত গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে।

অধ্যাদেশে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে হাওর ও জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে মহাপরিচালক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারবেন। একই সঙ্গে ক্ষতি কমাতে বা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া যাবে, যা মানা বাধ্যতামূলক।

নতুন অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি ধ্বংসের জন্য একাধিক অপরাধ ও শাস্তির বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়েছে। সরকারি আদেশ বা নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে ‘সুরক্ষা আদেশ’ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও।

সংরক্ষিত ঘোষিত হাওর ও জলাভূমি এলাকায় নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এমনভাবে পানি উত্তোলন বা ব্যবহার করা, যাতে পানিধারক স্তর, জলজ প্রাণী বা উদ্ভিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ অপরাধেও একই ধরনের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।

হাওর, জলাভূমি বা কান্দা অবৈধভাবে দখল, ভরাট, অননুমোদিত খনন বা রূপান্তরের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এমন অবকাঠামো নির্মাণ বা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

অধ্যাদেশে পানি, মাটি ও পরিবেশ দূষণের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া হাওর, জলাভূমি বা কান্দা থেকে মাটি, বালু, পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রেও দুই বছর জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

পরিযায়ী পাখি বা সংরক্ষিত জলজ প্রাণী শিকার, জলাবন বা কান্দার বন ধ্বংস কিংবা প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া নিষিদ্ধ জাল, বৈদ্যুতিক শক, বিষটোপ বা বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে মাছ ধরলে দুই বছর জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। এমনভাবে মাছ বা জলজ সম্পদ আহরণ, যাতে প্রজনন ও উৎপাদন ব্যাহত হয় এ অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত