ঢাকা, বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২

৭০ লাখ রিকশা-ভ্যান শ্রমিকের নিরাপত্তায় ১২ দফা দাবি

২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৪:১৮:৫৪

৭০ লাখ রিকশা-ভ্যান শ্রমিকের নিরাপত্তায় ১২ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের ৭০ লাখ রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক শ্রমিকের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২ দফা দাবি জানিয়েছে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় এসব দাবির কথা প্রকাশ করা হয়।

‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: রিকশা শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অঙ্গীকার’ শীর্ষক সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রিকশা শ্রমিক অংশ নেন। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি। তিনি বলেন, দেশের ৭০ লাখ শ্রমিকের রুটি-রুজি রক্ষায় রাজনৈতিক দল ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নীতিমালা না থাকায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবিকা নিরাপদ নয়। শ্রমিক ও তাদের পরিবারসহ প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ রুটি-রুজির অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বক্তারা বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের কাছে রিকশা শ্রমিকদের দাবিগুলো তুলে ধরতেই এই সভা আয়োজন করা হয়েছে।

সভায় তারা ব্যাটারিচালিত যানবাহনের গুরুত্বের বিষয়েও আলোচনা করেন। কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভাইরনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (সিএলইএএন)-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা খাত বছরে প্রায় ৯৭ হাজার ৬২৫ কোটি টাকার অবদান রাখছে। কিন্তু কার্যকর নীতিমালা না থাকায় সরকার এই খাত থেকে নিয়মিত রাজস্ব আদায় করতে পারছে না।

বক্তারা দাবি করেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদানের একমাত্র যোগ্য প্রতিষ্ঠান হলো বিআরটিএ। স্থানীয় সরকারকে লাইসেন্স প্রদানের দায়িত্ব দিলে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, লুটপাট ও হয়রানি চলছে। অতীতে কার্ড ব্যবসার নামে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাই অবিলম্বে লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন করতে হবে।

সভা থেকে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের ১২ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে:

১. আধুনিকায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ, দেশি মডেলে আধুনিকায়নসহ বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স ও রুট পারমিট প্রদান, যৌক্তিক নীতিমালা প্রণয়ন এবং আর্থিক প্রণোদনা।

২. বিআরটিএ কর্তৃক ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, লাইসেন্স না দেওয়া পর্যন্ত যান আটক বন্ধ।

৩. জরিপের মাধ্যমে এলাকার অটোরিকশার সংখ্যা ও মালিকানা নির্ধারণ এবং আনুপাতিকভাবে সকলের লাইসেন্স নিশ্চিত করা।

৪. দেশি মডেল অনুযায়ী সকলের জন্য আধুনিকায়ন, বাহন বিনিময় নীতি শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্ধারণ।

৫. শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা কমিটি গঠন।

৬. ব্যাটারিচালিত যানবাহনের শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন, জুলুম ও চাঁদাবাজি বন্ধ।

৭. যানবাহন গ্যারেজের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান।

৮. রাস্তায় চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সার্ভিস লেন নির্মাণ ও বাস্তবসম্মত ট্রাফিক ব্যবস্থা।

৯. নিত্যপণ্যের ভ্যাট কমানো, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, বাসস্থান, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও শিক্ষার নিশ্চয়তা।

১০. ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে গণপরিবহন হিসেবে স্বীকৃতি, এক অংকের সুদে জামানতবিহীন ঋণ।

১১. জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও সব রিট দ্রুত নিষ্পত্তি।

১২. শ্রমিকদের নাগরিক অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত, অমানবিক শ্রম থেকে মুক্তি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত