ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২

সংকট কাটাতে বড় উদ্যোগ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের

২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৯:৪০:১৩

সংকট কাটাতে বড় উদ্যোগ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংকটে পড়া শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পর্ষদ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে, যার মূল লক্ষ্য গ্রাহকের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

নতুন এই ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার সরাসরি ২০ হাজার কোটি টাকা জোগান দিয়েছে, যা ইতোমধ্যে ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকা গ্রাহকের আমানতকে শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে সমন্বয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

একীভূতকরণের অংশ হিসেবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসির পৃথক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। এসব ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু একটি বড় ব্যাংক গঠন নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে আস্থাহীনতায় ভোগা আমানতকারীদের আবার ব্যাংকমুখী করা। আস্থা ফিরে এলে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয় শ্রেণির গ্রাহকই নিয়মিত লেনদেনে ফিরবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে আমানতের গড় সুদহার সাড়ে ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে থাকলেও একীভূত হওয়ার আগে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকে এই হার ছিল সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১১ শতাংশের কাছাকাছি। এই বাস্তবতায় নতুন ব্যাংকটি আমানত আকর্ষণে আগের তুলনায় সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি মুনাফা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মার্চ থেকে নতুন মুনাফা কাঠামোর আওতায় আমানত সংগ্রহ শুরু হবে। শুরুতে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমানত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

চড়া মুনাফার আগেই গ্রাহকের আস্থা নিশ্চিত করতে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন আইনি জটিলতার কারণে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, কারণ একীভূত ব্যাংকগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসায়ন ঘোষণা করা হয়নি।

এই বাধা কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সুদসহ সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরতের নির্দেশ দেন। তাঁর মতে, হাতে টাকা পেলেই গ্রাহকের আস্থা দ্রুত ফিরে আসবে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এর আগে গত ২ ডিসেম্বর ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরুর পর ডেটা সফটওয়্যার প্রস্তুত, গ্রাহক তথ্য যাচাই, নতুন হিসাব খোলা, অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া, একীভূতকরণ স্কিম ও বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন সম্পন্ন করা হয়।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া জানান, প্রথম ধাপে মুনাফাসহ সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। এরপর অবশিষ্ট অর্থ থাকলে প্রতি তিন মাসে ১ লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা তোলার সুযোগ থাকবে। পুরো অর্থ পেতে গ্রাহকের প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে কিডনি ডায়ালাইসিস ও ক্যানসারে আক্রান্ত গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহক যে ব্যাংকে হিসাব খুলেছিলেন, সেখান থেকেই তিনি টাকা পাবেন। কোনো আমানতকারীকে খালি হাতে ফেরত দেওয়া হবে না।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত