ঢাকা, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ পৌষ ১৪৩২

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিকল্প নেই: টিআইবি

২০২৫ ডিসেম্বর ২৯ ২৩:৪৫:৩৪

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিকল্প নেই: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই সনদের ভিত্তিতে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন এবং একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিজয় নিশ্চিত করাকে সময়ের অপরিহার্য দাবি হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, রাষ্ট্রসংস্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এর কোনো বিকল্প নেই।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। পাশাপাশি গণভোট ইস্যুতে দলগুলোর অবস্থানও জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে উপস্থাপনের দাবি জানানো হয়।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংস্থাটির বার্ষিক সভা শেষে প্রকাশিত ঘোষণাপত্রে এসব দাবি জানানো হয়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার সদস্যরা অংশ নেন।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচিত হলেও জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো এবং আলোচনার বাইরে থাকা গণমাধ্যম, নারী, শ্রম, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো যেন উপেক্ষিত না হয় সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ইশতেহারে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে।

টিআইবি সদস্যদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর জনগণের মধ্যে সৃষ্ট স্বাধীন মতপ্রকাশ ও ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা এবং নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থ ও পেশিশক্তির দাপট যেন পুনরায় ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

ধর্মের রাজনৈতিক অপব্যবহারের ক্রমবর্ধমান প্রবণতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানায়, যেন তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সাম্প্রদায়িকতা রোধে স্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করে। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী-পুরুষসহ সকল জেন্ডার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সম-অধিকার, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবিরের ওপর আক্রমণ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটে ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে টিআইবি এসব ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আখ্যা দেয়। এ ধরনের প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

ঘোষণাপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের সুপারিশ উপেক্ষা করে দুদক অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুমোদনের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ কার্যত ভেস্তে গেছে। একইভাবে পুলিশ কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে মৌলিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সংস্কারবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন টিআইবি সদস্যরা।

নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য বৃদ্ধিতেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি জানায়, উগ্র ও নারীবিদ্বেষী গোষ্ঠীর তৎপরতায় নারীদের চলাচল ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া তথ্য কমিশনকে কার্যকর করা, পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনা, অর্থপাচার প্রতিরোধ জোরদার করা এবং ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি স্বাধীন ব্যাংক কমিশন গঠনের দাবিও জানানো হয়।

সভা শেষে টিআইবি সদস্যরা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে গণতন্ত্র, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত