ঢাকা, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২

৭ দফা দাবিতে সারাদেশে আরো এক প্রতিষ্ঠানের কর্মবিরতি

২০২৫ মে ২৬ ১৯:১৫:২৩

৭ দফা দাবিতে সারাদেশে আরো এক প্রতিষ্ঠানের কর্মবিরতি

বিদ্যুৎ সেবা চালু রেখেই আগামী মঙ্গলবার (২৭ মে) থেকে সারাদেশব্যাপী কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

সোমবার (২৬ মে) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাত দফা দাবিতে চলমান অবস্থান কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, অভিন্ন চাকরিবিধির বাস্তবায়ন, হয়রানি বন্ধ ও দায়ের করা মামলাসহ সাত দফা দাবি পূরণের লক্ষ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী গত ২১ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও সুশৃঙ্খল বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীরা নানা প্রকার শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছেন। এই অবস্থান কর্মসূচি তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংগঠিত হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) সরকারের কাছে বারবার ভুল তথ্য উপস্থাপন করে এই ন্যায্য আন্দোলনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, আমাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা বিদেশি সংস্থার সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের দাবি সরাসরি আরইবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং তারই প্রেক্ষিতে আমরা বাধ্য হয়ে কর্মসূচি পালন করছি।

প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন, প্রথম চার দিন শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালিত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না আসায় পঞ্চম দিনে আরইবির বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। আজ ষষ্ঠ দিনেও আমরা বিদ্যুৎ সেবা সচল রেখেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু দুঃখজনকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সাত দফা দাবিগুলো হলো—

১. পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমন-পীড়নের মাধ্যমে কর্মপরিবেশ অস্থিতিশীলকারী, অত্যাচারী আরইবি চেয়ারম্যানের অপসারণ।

২. এক ও অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরইবি-পবিস একীভূতকরণ অথবা দেশের অন্যান্য বিতরণ সংস্থার ন্যায় পুনর্গঠন।

৩. মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার, লাইন শ্রমিক এবং পৌষ্য কর্মীদের চাকরি নিয়মিতকরণ।

৪. মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারপূর্বক চাকরিচ্যুতদের স্বপদে পুনর্বহাল।

৫. গ্রাহক সেবার স্বার্থে লাইনক্রুসহ সব হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলি আদেশ বাতিল এবং বরখাস্ত ও সংযুক্ত কর্মীদের অবিলম্বে পদায়ন করতে হবে।

৬. জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা/শিফটিং ডিউটি বাস্তবায়নের জন্য অতিদ্রুত জনবলের ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

৭. পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত করতে হবে।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত